পরিবারের দাবি
বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ৫ জেলে মারা গেছেন
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৮
জেলেদের পরিবারে কান্নার আহাজারি, ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া এফবি বরকত নামের মাছ ধরার ট্রলারের নিখোঁজ পাঁচ জেলে মারা গেছেন। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তাদের মরদেহ সেখানে পাওয়া যায়। ট্রলারের ভেতরে আটকা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। ওই ট্রলারে মৃত্যুর শিকার জেলে আব্দুল কাওসারের ভাই মো. হারুন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত জেলেদের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের চর লাঠি মারা ও হাড়িটানা। তারা হলেন, নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের মরদেহ সাগর থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে কবরও খোঁড়া হয়েছে।
একই তথ্য জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা। তিনি জানান, হঠাৎ সাগর উত্তাল হওয়ায় প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে কিছু জেলে ক্লান্ত হয়ে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ তুফান ও ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। ১৩ জন জেলের মধ্যে আটজন নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ব্রিজের ভেতরে আটকা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর আট জন জেলে প্রায় তিন ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি ট্রলার এসে উদ্ধার করলে তারা প্রাণে বাঁচেন।
তবে কোস্টগার্ড বা ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে এ তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিখোঁজ জেলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া ট্রলারের ব্রিজের মধ্য থেকে পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাগর উত্তাল থাকায় তাদের মরদেহ এখন পর্যন্ত পাথরঘাটায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যানাগাদ মরদেহগুলো পাথরঘাটা পৌঁছাতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরের হাইরের চর সংলগ্ন এলাকায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে ১৩ জন জেলে ছিলেন। তাদের মধ্যে আটজন নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ভেতরে আটকা পড়ে এই পাঁচ জেলের মৃত্যু হয়।
ট্রলারের মালিক আশরাফ উদ্দিনের বড় ভাই মহিউদ্দিন জানান, দুই দিন আগে পাথরঘাটা থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় তার ভাইয়ের ট্রলার এফবি বরকত। সোমবার বৈরী আবহাওয়া ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে অন্য ট্রলারে আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে পাঁচ জেলে নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে শুনেছি। যাদের উদ্ধারে পাঠিয়েছি তারা মাবাইল ফোনে এ খবর জানিয়েছেন।
বরগুনা জেলা ট্রলার মৎস্যজীবী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম কোম্পানি জানান, সোমবার বরগুনা জেলার তিনটি মাছ ধরার ট্রলার সাগরে ডুবে গেছে। ট্রলারের সকল জেলে উদ্ধার হলেও এফবি বরকত ট্রলারের পাঁচ জেলে নিখোঁজ। নিখোঁজ জেলেসহ ট্রলারটি উদ্ধারের জন্য জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একটি ট্রলার সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপস পাল জানান, সাগরের ট্রলার ডুবির ঘটনায় পাঁচ জেলের নিখোঁজ আছে এটা সত্য। লোকমুখে শুনেছি- এই জেলেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু চোখে না দেখা পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সকল সময় খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কোস্টগার্ড জেলেদের উদ্ধারে সাগরে অবস্থান করছে বলে জানান।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

