Logo

সারাদেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

Icon

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৯

ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প


ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গতকাল সকাল সোয়া ১১টায় নগরীর সোনাডাঙ্গার ময়লাপোতা হরিজন কলোনিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পানি নিষ্কাশন,ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কর্মসূচিতে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন,গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ ৩১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও সম্প্রতি সময়ে বেড়ে যাওয়া ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া রোধে নানামুখী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ও জলাশয় আটকে পড়া ময়লা আবর্জনা যেনো মশা বংশবিস্তার না করতে পারে সেই জন্য বিশেষ তদারকি চলছে।এবং মশা নিধনে ৩১ টি ওয়ার্ডের চালানো হচ্ছে নিয়মিত বিশেষ অভিযান। এই ধারাবাহিকতায় কেসিসির প্রশাসক মঙ্গলবার  দিনভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।সকাল ১০ টায় সোনাডাঙ্গা থানাধীন ১০,১৬,১৭ ও ২৫ নং ওয়ার্ড।বেলা ১২ টায় সদর থানা এলাকার আহসান আহমেদ রোড ২৩ নং ওয়ার্ড। সাড়ে ১২ টায় খুলনা থানাধীন টুটপাড়া তালতলা ৩০ নং ওয়ার্ড। বেলা ১ টায় খুলনা থানাধীন নতুন বাজার বেড়িবাধ চরবস্তি ২২ নং ওয়ার্ড।বিকাল ৪ টায় কেসিসির সম্মেলন কক্ষে ও বাদ আছর এরপর আরো কয়েকটি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম সক্রিয় থাকবে।খুলনা একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী—খুলনাকে এমন একটি শহরে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন, খাল-নালা পরিষ্কার ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন তিনি।কখনো ভোরে, কখনো সকালে আবার কখনো দিনের শেষভাগে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন কেসিসি প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিচ্ছেন তাৎক্ষণিক নির্দেশনা। কেবল দাপ্তরিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে গিয়ে নাগরিক সমস্যাগুলো দেখার এ তৎপরতা নগরবাসীর মধ্যেও তৈরি করেছে ইতিবাচক প্রত্যাশা।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু দায়িত্ব গ্রহণের সময়ই পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন নগরী গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর

খুলনা মহানগরীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসক নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন তিনি।নগরীর বিভিন্ন বাজার ও কসাইখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন প্রশাসক। কেসিসির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তিনি গল্লামারী কসাইখানা এবং নগরীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি খাল উন্নয়ন ও বর্তমান পরিস্থিতিও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

মশক নিধন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তৎপরতা ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে কেসিসি। প্রশাসক মশক নিধনের ওষুধ কার্যকর কি না তা পরীক্ষা করে কেনার এবং এ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কেসিসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

সমগ্র মহানগরী এলাকায় মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রশাসকের সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন ।এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারক করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।খাল-নালা ও পরিবেশ রক্ষায় মাঠে

খুলনার জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যার সঙ্গে খাল-নালার সংযোগ রয়েছে। এ কারণে নগরীর খালগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণেও গুরুত্ব দিচ্ছেন কেসিসি প্রশাসক।পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার লক্ষ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন প্রশাসক। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি খুলনাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।নাগরিক প্রত্যাশা বাড়ছে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই প্রশাসকের মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় নগরবাসীর মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।নগরবাসীর প্রত্যাশা—পরিদর্শন ও নির্দেশনার পাশাপাশি এসব উদ্যোগ যেন নিয়মিত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ নেয়।

নগর বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেই একটি নগরী পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এজন্য আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত মশক নিধন, খাল-নালা দখলমুক্ত ও পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত সবুজায়ন এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রশাসকের মাঠপর্যায়ের তদারকির সঙ্গে এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে খুলনাকে আরও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব।কেসিসি প্রশাসক নিজেও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়াকে অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর লক্ষ্য—নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ নগরী প্রতিষ্ঠা করা।নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসকের এই মাঠমুখী তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং রাতদিন ছুটে চলার এ প্রচেষ্টা বাস্তব ফলাফলে রূপ নেবে। তাহলেই ‘প্রাণের শহর’ খুলনা হয়ে উঠতে পারে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, সবুজ ও বাসযোগ্য এক আধুনিক নগরী।ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে কেসিসির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছেন।বর্তমানে নগরীর যে সকল সমস্যা নিয়ে কেসিসি কাজ করছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ। ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রায় দুই মাস পূর্ব থেকে জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি অব্যাহত আছে। 

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন