দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি প্রায় ছয় বছর ধরে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে ২ নম্বর ইউনিটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা, সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ জন্য ইউনিটটিতে বড় ধরনের ওভারহোলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ নম্বর ইউনিটটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউনিটটি চালু করতে বড় ধরনের ওভারহোলিং প্রয়োজন হবে। এ কাজের জন্য একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছিল বলেও তখন তিনি জানিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওরা কাজ করছে। কাজ অনেক দূর অগ্রসরও হয়েছে, হলেই জানতে পারবেন।’
কাজটি কারা করছে জানতে চাইলে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে বর্তমানে ওভারহোলিংয়ের কাজটি কোন প্রতিষ্ঠান করছে, চুক্তির মূল্য কত এবং কাজ শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি পুরোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করতে হলে বয়লার, টারবাইন, জেনারেটরসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ পরিবর্তন ও সংস্কারের পর পরীক্ষামূলকভাবে ইউনিটটি চালানোর প্রক্রিয়াই মূলত ওভারহোলিংয়ের অংশ।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিটের সক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট। ফলে ইউনিটটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির মোট স্থাপিত সক্ষমতার একটি অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরোনো ইউনিটটি সংস্কারের উদ্যোগকে ঘিরে অর্থনৈতিক ও কারিগরি দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংস্কারের পর ইউনিটটি কত বছর নির্ভরযোগ্যভাবে উৎপাদনে থাকতে পারবে, উৎপাদন দক্ষতা কেমন হবে এবং ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণে কত ব্যয় হবে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাস্তবে কতদূর এগিয়েছে, ওভারহোলিংয়ের দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠান পেয়েছে, কত টাকা ব্যয় হবে এবং কবে নাগাদ ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরতে পারে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য অনুযায়ী ওভারহোলিংয়ের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে ইউনিটটির উৎপাদনে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ব্যয়ের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার পরই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
বিকে/মান্নান

