অভিযুক্ত যুবক পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন
কক্সবাজারে হোটেলের বারে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫
নাজিবুল হক ও সালমান মিয়া, ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে একটি আবাসিক হোটেলের বারের (পানশালা) ভেতরে ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত এক যুবককে পুলিশ আটক করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে নিহত যুবকের নাম নাজিবুল হক (২৮)। তিনি শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা। নিহত অপরজন হলেন সালমান মিয়া (২৮)। তার বাড়ি শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায়।
পুলিশ ও বার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাজিবুল হক ও সালমান মিয়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তারা পাঁচ বন্ধু রেনেসাঁ হোটেলের বারে মদ পান করতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে সালমান মিয়া নাজিবুলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নাজিবুলের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে নুনিয়ারছড়া এলাকা থেকে হোটেলটিতে আসেন নাজিবুলের স্বজনেরা। এরপর তারা সালমান মিয়াকে মারধর করতে করতে নুনিয়ারছড়া নিয়ে যান। ছুরিকাঘাতের বিষয়টি জানার পর পুলিশ গিয়ে সালমান মিয়াকে আটক করে। এরপর রাত একটার দিকে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ‘বারে বসে মদ পান করার সময় কথা-কাটাকাটি থেকে ছুরিকাঘাতে নাজিবুলের মৃত্যু হয়। পরে নাজিবুলের স্বজনদের পিটুনিতে আহত অভিযুক্ত সালমানকেও আমরা আটক করি। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।’
অহিদুর রহমান আরও বলেন, ‘আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বারটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। সিটিভি ফুটেজ এবং বারে কর্মরত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।’
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সালমান মিয়া একটি কিশোর গ্যাংয়ের লিডার। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

