Logo

সারাদেশ

নওগাঁয় সরকারি গাছ কাটার তাণ্ডব

Icon

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৪

নওগাঁয় সরকারি গাছ কাটার তাণ্ডব


আইন-কানুন ও সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নওগাঁর মান্দায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মূল্যবান শতবর্ষী শিমুল গাছ কেটে সাফ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পদ দিনে-দুপুরে সাবাড় করলেও নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের সোজা হিসাব—আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে সরকারি সম্পত্তিতে কুঠার চালানো কে এই নাহিদ? আর কিসের জোড়েই বা তিনি এমন দুঃসাহস দেখালেন?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কশব ইউনিয়নের দেগারা-ময়না ডাঙ্গা প্রধান সড়কের পাশে থাকা বাপাউবোর একটি বিশাল শিমুল গাছ ক্ষমতার দাপটে কেটে ফেলছেন ওই গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে নাহিদ। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিশিয়ান। স্থানীয়দের হিসেব মতে, কেটে ফেলা গাছটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করেই নাহিদ দাবি করেন, তিনি প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করছেন। ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়ে তার বাড়ির ক্ষতি হতে পারে—এমন কাল্পনিক আশঙ্কায় তিনি নিজ সিদ্ধান্তেই সরকারি গাছটি কেটে ফেলছেন। কিন্তু সরকারি গাছ কাটার কোনো বৈধ অনুমতিপত্র বা কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

নিজের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সরকারি সম্পদ ধ্বংসের এমন খোঁড়া অজুহাতে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, একটি ব্যক্তিগত ভবন সুরক্ষার দোহাই দিয়ে কীভাবে সরকারি গাছ সাবাড় করা হয়? কোনো অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করার পেছনে তার খুঁটির জোর কোথায়?

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি না থাকলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি কেবল তদন্তের আশ্বাসেই যেন বিষয়টি ধামাচাপা না পড়ে। সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের অপরাধে অবিলম্বে এই ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন