পিরোজপুরে ঝুঁকিপূর্ণ পুল, ২ কিমি সড়ক সংস্কারের দাবি
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৩
পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭ নম্বর শংকরপাশা ইউনিয়নের বেলতলা এলাকায় উমেদপুর খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ পুল এবং সংযোগ সড়কের বেহাল দশায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলটি নতুন করে নির্মাণ এবং সংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, বেলতলা কবি আহসান হাবিব স্মৃতি ফলকের উত্তর পাশে মসজিদের সামনে উমেদপুর খালের ওপর নির্মিত পুলটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুলের গোড়া থেকে বাঁশবাড়িয়া নাজেম খাঁর বাড়ি হয়ে জহিরুল খানের বাড়ির সামনে দিয়ে কালিকাঠী হিন্দুপাড়া হয়ে তৈয়ব আলী হাউজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার ইটের রাস্তার বিভিন্ন অংশও ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি, কৃষকসহ অন্তত তিন গ্রামের সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কৃষকদের ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে জহিরুল খান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তার আবেদনে পুলটি জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণের পাশাপাশি সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার দাবি জানানো হয়। এদিকে, এ সমস্যার বিষয়টি উল্লেখ করে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। ডিও লেটারে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, শংকরপাশা ইউনিয়নের ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পুলটির কারণে স্থানীয় জনগণকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উমেদপুর খালের ওপর আনুমানিক ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন পুল নির্মাণ করা হলে এলাকার জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উপজেলা সদর ও আন্তঃইউনিয়ন যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল খান বলেন, পুল ও রাস্তাটির সমস্যার বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে অর্থ ব্যয় করে কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় পুলে ভিম বসানো হলেও দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের জন্য এখানে একটি স্থায়ী পুল নির্মাণ ও সড়কটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের চলাচল এই পথের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে পুল ও সড়কের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও সংসদ সদস্যের সুপারিশের পরও কেন এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
বিকে/মান্নান

