গুরুদাসপুরে কোনোভাবেই থামানো যা্েনছ না সোঁতিজালের দৌরাত্ম¥্য
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৭
নাটোরের গুরুদাসপুরে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না সোঁতিজালের দৌরাত্ম। ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদলায়নি সোঁতিজালের মালিকানা। মৎস্য অফিস বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও অবৈধ সোঁতি উচ্ছেদ হচ্ছেনা। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু জাল জব্দ করে পোড়ানো হলেও সোঁতি মালিকদের বিরুদ্ধেজেল জরিমানা বা কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন।
স্থানীয় অনেকের মতে, মৎস্য অফিসের অবস্থা- বজ্র আটুনি ফসকা গিরো’র মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোঁতি উচ্ছেদে দৃশ্যমান কার্যক্রম না থাকায় জনমনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। বারবার আশ্বাস দিলেও প্রশাসন সুপার ফ্লপেই রয়েছে। তাদের আর বিশ্বাস করতে চাইছে না কেউই।
এদিকে জমিতে রবিশস্য বোনার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ভোরে বিলের পানির দিকে তাকিয়ে ছিলেন কৃষক মকুল। কিন্তু পানি নামছে না। তার ওপর যেন চিন্তার পাহাড়।
স্বাভাবিক স্রোতের পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের বেড়া আর সোঁতিজাল। মকুলের মতো চলনবিলের অনেক কৃষকের এখন একটাই ভয়। সময়মতো পানি না নামলে সরিষা, রসুন ও গমের আবাদ বাধাগ্রস্ত হবে। মাছ ধরার জন্য বসানো কয়েকটি সোঁতিজাল তাঁদের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চলনবিলে চলছে ভাটার টান। পানির সঙ্গে দেশীয় নানা
প্রজাতির মাছ হচ্ছে। সেই মাছ ধরতেই আত্রাই নদীর বিভিন্ন ¯’ানে পানির
স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে বসানো হয়েছে সোঁতিজাল। বাঁশ পুঁতে ও
তালাইয়ের বেড়া দিয়ে তৈরি এসব জালে মাছের পাশাপাশি আটকা পড়ছে জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কৃষিকাজে তৈরি
হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী সংকট।
অভিযোগ উঠেছে, সোঁতিজালের সাথে জড়িতরা বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে। উপজেলার সাবগাড়ি বাজার এলাকায় আব্দুল মান্নানের ১৪ জন সহযোগী ছাড়াও জ্ঞানদানগর সামাদের ঘাটে সোঁতি বসিয়েছেন রবি মিয়া। হরদমা বিলেও সোঁতিজালে মাছ শিকার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পা”েছ না বলে জানান তাঁরা। এ ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করছে না প্রশাসন।
কৃষকরা জানান, সোঁতিজালের কারণে সময়মতো পানি নামতে না পারায়
চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কচুরিপানায় পানির প্রবাহ থমকে আছে। এতে ছিটিয়ে বোনা সরিষা, রসুন, গমসহ রবিশস্যের আবাদ নিয়ে শঙ্কিত তাঁরা। তাঁরা দ্রুত এসব সোঁতিজাল অপসারণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান জানান, সোঁতি আপাতত বন্ধ আছে। তবে সরেজমিনে দেখা যায় সোঁতি পাতাই রয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা বলেন, মাঝে মাঝেই সোঁতি উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উ”েছদের পরপরই আবারও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। জড়িত আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের আটক করা বা প্রচলিত াইনে মামলা দেওয়া যাচ্ছে না।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযানের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে। একটি সোঁতিজাল উচ্ছেদ করা বেশ ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। শুরুতেই ¯’ানীয়রা প্রশাসনকে অবহিত করলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন- ‘নদীতে ভয়ানকভাবে সোঁতিজাল পাতা থাকে। এক-দুই দিনের মধ্যে অপসারণ সম্ভব নয়। তবে গুরুদাসপুরের মৎস্য অফিসকে দ্রুত সোঁতি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া দিবেন বলে জানান।’
বিকে/মান্নান

