মুন্সীগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ জন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৩
মুন্সীগঞ্জে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এ বছর মোট জেলায় বিভিন্ন হাসপাতলে ডেঙ্গ আক্রান্ত হয়ে ভর্তির সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৯৮২ জন। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্ব) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম এসব তথ্য জানান।
সিভিল সার্জনের দেওয়া তথ্যমতে বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছর ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮২ জনে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বেসরকারি পর্যায়সহ বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে জানাগেছে এ বছর জেলায় ডেঙ্গুতে মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে। এর মধ্যে একজন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ও একজন আইনজীবি রয়েছেন ।
সাম্প্রতিক সময়ে মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
উপজেলা ও জেনারেল হাসপাতাল ভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬২১ জন, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১১৩ জন , লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ জন, সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৬ জন, টঙ্গিবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ৮৮ জন ও শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ৫৩ জন।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলার সব কয়টি হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু রয়েছে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতাল কেন্দ্রিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, বোতল, টায়ার, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। শিশুদের বিশেষভাবে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড় দেওয়া এডিস মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়। একই সঙ্গে হাসপাতাল, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিকে একদিনে, ৪৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং বর্তমানে ৮৯ জন চিকিৎসাধীন থাকার ঘটনায় মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ফের উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সচেতন মহল পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। জেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মুন্সীগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণে আরও সচেতন হতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বিকে/মান্নান

