Logo

সারাদেশ

গুরুদাসপুরপৌরসভার সড়কগুলো এখন মরণ ফাঁদ

Icon

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫২

গুরুদাসপুরপৌরসভার সড়কগুলো   এখন মরণ ফাঁদ


গুরুদাসপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় জন ও যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। কাদাপানির নিচে ভাঙা সড়কগুলো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার অধিকাংশ জায়গায় উঠে গেছে কার্পেটিং।

দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগান্তি পোহালেও রাস্তাগুলো সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো আন্তরিকতা নেই-এমনটিই মনে করছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী। এদিকে সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ও রিকশা-ভ্যানে রোগী আনা নেওয়ার সময় ঝাঁকুনিতে কষ্ট আরও বেড়ে যায়। জরুরি মুহূর্তে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না রোগীরা। দিনরাত ২৪ ঘন্টাই এ রাস্তায় বাস, ট্রাক, ট্রলি, সিএনজি, অটোসহ নানা রকমের যানবাহন চলে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসু¯’ রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তবুও দেখার কেউ নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনিয়মে নির্মিত পৌর এলাকার রাস্তাগুলোর মোড়ে মোড়ে উচু নিচু কার্পেটিং করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বাণিজ্যনগরী চাঁচকৈড় বাজার পর্যন্ত ১ কিলোমিটার প্রধান সড়কের এই বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই। অথচ সড়কে ইট-বালু রেখে পাশেই ড্রেন নির্মাণ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল ফটকের ভাঙা সড়কে দাঁড়িয়ে আছে এ্যাম্বুলেন্স আর অটো। পাশেই রয়েছে বাস স্ট্যান্ড।

সংস্কার না করায় রাস্তাটির বিভিন্ন ¯’ানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাছ বহনকারী গাড়ীগুলোর পানি ছিটকে পড়েও রাস্তায় কাদা হচ্ছে। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দূর্ঘটনা।

চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া এলজি মোড় থেকে কাঠহাটা পর্যন্ত ‘সওজ’ বিভাগের রাস্তা হলেও এলোমেলো ইট বিছানো রয়েছে। চরম ঝুঁকি সহ্য করে যাতায়াত করতে হয়। এ রাস্তা এতই বন্ধুর যে, প্রসূতি রোগীদের আনা নেওয়া করা কঠিন। কোথাও ড্রেন আছে, কোথাও নেই। আবার ড্রেন থাকলেও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই।

কাদাপানিতে নষ্ট হচ্ছে হাটে আসা মানুষের কাপড়-চোপড়।

স্থানীয় শাহজাহান আলী, আপেল সরকার, জারজিস হোসেন, জুলফিকার হাবিব, বেলাল হোসেনসহ অনেকে জানান, পৌরসভার বেশিরভাগ রাস্তাই চলাচলের অযোগ্য। জনগণ এত টাকা ভ্যাট/ট্যাক্স দিয়েও সুফল পাচ্ছেনা। ড্রেন নির্মাণের সাথেই রাস্তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তারা।

এছাড়া পৌর সদরের ১নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন ১২০ ফিট জায়গায় ড্রেন নির্মান না করার কারণে জনভোগান্তি বেড়েই চলছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০০১ সালে এডিপি টেন্ডার হলেও অদ্যবধি সে কাজটি আলোর মুখ দেখেনি।

ভুক্তভোগী শাহরিয়ার স্বপন আব্বাসী, ময়েজ উদ্দিন, আফতাব উদ্দিনসহ অনেকে জানান, বছরে প্রায় ৬ মাস পানিবন্দি থাকেন তারা। পৌরসভায় আবেদন করেও সুফল পা”েছন না। এমনকি ¯’ানীয় এমপি আব্দুল আজিজের সুপারিশও মানছেন না পৌর কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যনগরী চাঁচকৈড় হাটের প্রতিটি রাস্তা ও অলিগলি এখন কাদাপানির রাজ্য। বাজারের আমজাদ শেখ স্মৃতিগেট থেকে শুরু করে ধান হাট, পাট হাট, কাঠ হাট, ডিম হাটা, গুড় ও চৈতালী হাটসহ বাঁশ হাটার রাস্তাগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও এসব রাস্তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন- কিছু রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তার কাজ শুরু করব। তারপরও তিনি পৌর প্রশাসকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এদিকে পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন- ‘ঢাকায় আছি। গুরুদাসপুরে ফিরে বিষয়টি দেখব।’ 

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন