Logo

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ

Icon

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪২

অ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ   বৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি ফের উদ্বেগ তৈরি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২১ জনে। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১০ জন।

কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ১৩ জনের বিপরীতে ২৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য নেই।

তবে আক্রান্তের ধারাবাহিকতা এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক রোগীর চিকিৎসাধীন থাকার তথ্যকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজননস্থল বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে দেখা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে—২৫ জন।

এ ছাড়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন, তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন এবং হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, বাজিতপুরে ৩ জন, কুলিয়ারচরে ৪ জন, ভৈরবে ২ জন এবং পাকুন্দিয়ায় ৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রকাশিত তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। অর্থাৎ, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ১১০ জনে রয়েছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য থাকলেও সংক্রমণের ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ, ড্রেন ও নালা পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত নজরদারি জরুরি।

বিশেষ করে শহর ও উপজেলা পর্যায়ে নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কিশোরগঞ্জে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হলেও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর হচ্ছে— সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও ১ হাজার ৪২১ জন আক্রান্ত হওয়া এবং বর্তমানে ১১০ জনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের চেয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। এটি চিকিৎসাব্যবস্থায় স্বস্তির একটি দিক হলেও প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

তাই হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার পাশাপাশি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে কার্যকর অভিযান, নিয়মিত তদারকি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করা।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন