Logo

সারাদেশ

বীরগঞ্জে সবুজ ধানের ক্ষেতে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

Icon

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৬

অ
বীরগঞ্জে সবুজ ধানের ক্ষেতে   দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

 যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই সবুজের বিস্তার। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাতাসের দোলায় ঢেউ খেলছে আমন ধানের ক্ষেত। উপজেলার নিজপাড়া, সাতোর, সুজালপুর, ভোগনগর, মোহনপুর, পলাশবাড়ী, মরিচা, শতগ্রাম ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদজুড়ে এখন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। সবুজ ধানের গাছে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন হাজারো কৃষক। মাঠে মাঠে আমন ধানের গাছ এখন সতেজ ও প্রাণবন্ত। কোথাও ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে, আবার কোথাও শীষে দুধ আসার অপেক্ষা। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় এ বছর আমনের ক্ষেতগুলো বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধানক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ রোগবালাই পর্যবেক্ষণ করছেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে এখন আমনকে ঘিরেই চলছে কৃষকদের কর্মব্যস্ততা।

নিজপাড়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, এবার ধানের অবস্থা অনেক ভালো। বৃষ্টিও সময়মতো হয়েছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।

সাতোর ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ধানের ক্ষেত দেখে মন ভরে যায়। কয়েক মাসের কষ্টের ফল এখন চোখের সামনে। তবে ধানের দাম নিয়ে চিন্তা থেকেই যায়। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ধানের দাম সবসময় সন্তোষজনক থাকে না।

উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান চাষ এখনও এ অঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারের প্রধান জীবিকার উৎস। ভালো ফলন হলে শুধু পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত হয় না, বরং সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনও মেটানো সম্ভব হয়। তাই আমন মৌসুমকে ঘিরে কৃষকদের প্রত্যাশা থাকে সবচেয়ে বেশি।

এদিকে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়, ক্ষেত পরিদর্শন এবং রোগবালাই দমন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমন ধানের আবাদ সন্তোষজনক হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতের অবস্থা ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধানের ক্ষেতে মাজরা পোকা, বাদামি ফড়িং, পাতামোড়ানো পোকাসহ বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিতে পারে। এজন্য কৃষকদের নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সবুজে ঘেরা বীরগঞ্জের মাঠজুড়ে এখন আশার গল্প লিখছেন কৃষকরা। তাদের বিশ্বাস, প্রকৃতি সহায় হলে এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কয়েক মাস পর এই সবুজ ক্ষেতই সোনালি ধানে ভরে উঠবে। তখন কৃষকের গোলা হবে পূর্ণ, আর মুখে ফুটবে স্বস্তির হাসি।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন