Logo

সারাদেশ

ফরিদপুরে গুমানী নদীতে খাঁচায় মাছ চাষে সফল উদ্যোক্তারা

Icon

‎চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২৩

অ
ফরিদপুরে গুমানী নদীতে খাঁচায়   মাছ চাষে সফল উদ্যোক্তারা

পাবনার ‎ফরিদপুর গুমানী নদীর খোলা পানিতে খাঁচায় উচ্চ ঘনত্বে মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। অল্প জায়গায় তুলনামূলক বেশি মাছ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় এ পদ্ধতিতে সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। তবে সরকারি ঋণ, আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা না থাকায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৃহৎ পরিসরে এ চাষ সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

‎সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া গুমানি নদীর নারায়ণপুর পয়েন্টের দুই পাশে সারি সারি ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বর্তমানে প্রায় ৩০০টি খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে। একই নদীর পার্শ্ববর্তী রতনপুর গ্রামেও রয়েছে আরও ১০টি খাঁচা।

‎চাষিরা জানান, ভাসমান খাঁচায় পোনা ছাড়ার পর মাছ বাজারজাত করতে সময় লাগে প্রায় ৪-৫ মাস। বাঁশ, জাল ও ভাসমান ড্রাম ব্যবহার করে এসব খাঁচা তৈরি করা হয়। ২০/১০ ফুট আয়তনের একটি খাঁচা তৈরিতে আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয় অনুকূলে থাকলে একটি খাঁচা থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে।

‎এখানে মূলত মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা হচ্ছে। চাষিদের ভাষ্য, অন্য প্রজাতির মাছ চাষ করার চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি না হওয়ায় সেগুলো জনপ্রিয়তা পায়নি।

‎উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ও খাঁচায় ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পুকুরের তুলনায় এখানে প্রায় ১০০ গুণ বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। ২০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি খাঁচা থেকে ১০ থেকে ১৫ মণ মাছ উৎপাদন সম্ভব। আমাদের একটি নিরাপত্তা বলয়ের প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।’

‎তবে নদীর পানি দূষণ ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়াকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন চাষিরা। তাদের ভাষ্য, নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে গেলে খাঁচার মাছ মারা যেতে পারে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ডেমরা এলাকায় বিভিন্ন উৎসের বর্জ্য ও দূষিত পানি নদীতে পড়ায় পানি দূষিত হয়ে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে খাঁচার মাছের পাশাপাশি নদীর প্রাকৃতিক মাছও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তারা।

‎চাষিদের অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হলেও মূলত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলেই মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা খোঁজ নেন। নিয়মিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের অর্থে এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।

‎এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলে তিনি বার্তাটি দেখেছেন, তবে কোনো তথ্য বা বক্তব্য দেননি।

‎সচেতন মহলের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং মাছ চাষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে খোলা পানিতে খাঁচায় মাছ চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে নদীভিত্তিক মাছ উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন