নাচোলে আধুনিকায়নের ভিড়ে বিলুপ্তির পথে কুটিরশিল্প
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে একসময় দাপিয়ে বেড়ালেও এখন তা বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাঁশ-বেত ও শিল্প। একসময় গ্রামীণ জনপদে বাংলার ঘরে ঘরে তৈরি হতো হাজারো পণ্য সামগ্রী। ঘরের কাছের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেকরকম জিনিস। অনেকেই এদিয়ে জিবীকা নির্বাহ করতেন। দরিদ্র পরিবারের অনেকের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল এগুলো। কিন্তু আজ বাংলাদেশের কটি গ্রামে হস্তশিল্পটি উপার্জনের পেশা হিসেবে বেঁচে আছে, তাং ভাবনার বিষয়।এ শিল্পে জড়িত অনেকেই বাপ দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন।
কয়েকবছর আগেও এ দেশের তৈরি বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসের কদর ছিল। চেয়ার, টেবিল, বিয়ের সেলফ, মোড়া, কুলা, ঝুড়ি, ডোল, চাটাই, থেকে শুরু করে এমনকি ড্রয়িংরুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হতো। এছাড়াও মাছ ধরার হলো, হাঁস, মুরগির খাঁচা, শিশুদের ঘুম পাড়ানো দোলনা এখনো গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সমাদৃত। আর এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক ও মেলামাইনের জিনিসপত্র। ফলে নাচোলে অনেকে বদলে ফেলেছেন এ পেশা। পেটের দায়ে যারা এখনো এই পেশায় আটকে আছেন, কষ্টে দিন কাটছে তাদের। উপজেলার আবু বাক্কার ও আনসার আলী ও নামের বাঁশ-বেতের কারিগর, পরিবারের হাল ধরতে কয়েক যুগ আগে যোগ দেন এই পেশায়। একসময় এই পেশা দিয়ে সংসার ভালো ভাবে চললেও এখন নুনু আন্তে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। তিনি বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের যে দাম, তাতে ভালো মতো চলা যায় না। ঋণ মহাজন করে চলা লাগে। সংসারের সব খরচ যোগানো সম্ভব হয় না। কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন একদিকে পণ্যের ভালো দাম না পাওয়া, অন্যদিকে প্রযুক্তি আধুনিকায়ন। দুইয়ে মিলে এই পেশায় টিকে থাকাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, বাঁশ বেতের জিনিস তো মানুষ আগের মতো কিনতে চাই না। যদি প্লাস্টিক না থাকতো তাহলে চলতো। লাভ কম হলেও এটা ঐতিহ্যবাহী শিল্প আমরা ধরে রাখছি। সরকার থেকেও কোন সহযোগিতা পাই নাই। কোনদিন আমাদের নামটাও কেউ জিজ্ঞেস করতে আসেনি। এই প্রথম আপনি আইলেন। অল্প সুধে কৃষকরা ঋণ পাচ্ছে। কিন্তু আমরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছি। হয়তো এ ব্যবসাটা একটা সময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
সরকারের ইচ্ছে আছে বাঁশ বেত কুটির শিল্প সহ ঐতিহ্য কুটির শিল্পের কাজ গুলো যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে কর্মসূচির কাজ করছে বলে জানান নাচোল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সোহেল রানা। তিনি বলেন তালিকা ভুক্ত কুটির শিল্পদের
‘ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা যথাসাধ্য সহায়তা করার চেষ্টা করবো।
সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে এক সময় হারিয়ে যাবে এই শিল্প। তাই শুধু প্রতিশ্রুতিতে আটকে না থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই ঐতিহাকে টিকিয়ে রাখার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
বিকে/মান্নান

