গুরুদাসপুরে দেশের আলোচিত প্রবীণ আব্বাসের জীবনাবসান
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৯
গুরুদাসপুরের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আলোচিত ১২৩ বছর বয়সী আব্বাস
প্রামাণিকের জীবনাবসান হলো দাফনের মধ্য দিয়ে। জীবনের শেষ মুহুর্তেও খালি চোখে স্পষ্টভাবে কোরআন পড়তেন তিনি।
আগামী শুক্রবার দেশের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যাক্তি আব্বাস প্রামাণিককে দেখতে আসবেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। কিন্তু তার আগেই সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় না ফেরার দেশে
পাড়ি জমাতে হলো তাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক সচিব সাইদুর রহমান জানান, এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. জামসেদ আহম্মেদ, এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক দাউদ রিজভী এবং কাতার চ্যারিটির কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকারিয়া আল মুতাইর তাকে দেখে গেছেন। প্রবীণ আব্বাসের খোঁজখবর ও সাধ্যমতো সহায়তা করা হতো উপজেলার খুবজীপুর প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে।
বিস্ময়কর বিষয় হলো- ১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই নিয়মিত নামাজ-কোরআন পড়তেন আব্বাস। সময়কে গুরুত্ব দিয়ে হাতে রাখতেন ক্যাসিও ঘড়ি।
ভাঙাচোরা ঘরেই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেছেন।
বেশিরভাগ সময় হেঁটে চলাচল করেছেন। সবচেয়ে প্রবীণ ব্যাক্তি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হন আব্বাস
প্রামাণিক। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দুর্গাপুর প্রাইমারী স্কুল মাঠে মরহুম আব্বাস প্রামাণিকের জানাজা নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে
দাফন করা হয়। দীর্ঘ জীবনের ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন দেখেছেন আব্বাস প্রামাণিক। তাঁর ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ আছে ১৯০৩ সাল। স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। কর্মজীবনে ৬০ টাকা বেতনে তিনি খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি এলাকায় ছেলে মেয়েদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে রয়েছে। তিনি মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘প্রবীণ ব্যাক্তি আব্বাস ছিলেন অসাধারণ গুণিলোক। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তাঁর পাশে ছিলো। বৃদ্ধরা অবহেলিত নয়
বরং সম্পদ- তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন আব্বাস আলী। গৌরবময় মৃত্যুতে মরহুমে রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’
বিকে/মান্নান

