মিরসরাইয়ে বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেপ্তার ৪
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:৪৯
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কথা কাটাকাটি জেরে পৌরসভা বিএনপি ও যুবদল নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরসরাই পৌর সদর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবদল কর্মীর নাম জাহেদ হোসেন মুন্না (২০)। তিনি মিরসরাই পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের গোভনীয়া এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং নির্মাণ সামগ্রী সাপ্লাইয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- মো. আরাফাত (২৩), আসিফ (২১), হাসান (২১), সজীব (২০), রাহাত (২৪), রাশেদ (২২) হৃদয় (২১) ও মো. শাকিল (১৮)।
সংঘর্ষে আহত মো. সজীব বলেন, ‘আমরা পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব জাহিদ হোসেন ভাইয়ের কয়েকজন অনুসারী সোমবার রাত ১১টার দিকে মিরসরাই স্টেডিয়ামে চলা বাণিজ্য মেলার গেটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার টোল আদায়সহ শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করছিলাম। এ সময় পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল হাসানের ২০-২৫ জন অনুসারী ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করে। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর কামরুল হাসানের অনুসারীরা আমাদের ওপর আবারও চড়াও হয়। তারা আমাদের ধাওয়া দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নিয়ে আসে। এ সময় তারা মুন্নাকে সামনে পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত মুন্নাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা সদরের সেবা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।’
যুবদল কর্মী মো. মুন্নার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব জাহিদ হোসেন।
মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান সরকার বলেন ‘সোমবার রাত ১১টার দিকে পৌর সদরে মারামারির ঘটনায় আহত আট যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মো. মুন্নার অবস্থা ছিল গুরুতর। তার ডান পায়ের ঊরুতে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। সেখান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি। সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তন্ময় জামশেদ আলম বলেন, জাহিদ হোসেন মুন্নাকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে। মূলত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মিরসরাই থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, যুবদল কর্মী নিহতের ঘটনায় পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল হোসেনসহ চারজনকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ। মুন্না হত্যার ঘটনায় তার ভগ্নিপতি বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে মিরসরাই স্টেডিয়ামে শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সাফায়েত মেহেদী/এমএইচএস

