নদীতে উদ্গিরণ হওয়া গ্যাস তোলা হচ্ছে ড্রাম দিয়ে, দুর্ঘটনার শঙ্কা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৯:৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে উদ্গিরণ হওয়া গ্যাস অবৈধভাবে প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে স্থানীয় বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক কারখানায়। এই বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডে বাড়ছে অগ্নিঝুঁকি। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের তত্ত্বাবধানে এই গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রয়েছে প্রায় দেড় দশক ধরে।
নদীতে ড্রাম স্থাপন করে এবং প্লাস্টিক পাইপ ব্যবহার করে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। নদীর পাড়ে থাকা গাছের মাধ্যমে পাইপ ঝুলিয়ে বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন চুন ও চুড়ি তৈরির কারখানায় এই গ্যাস পৌঁছানো হচ্ছে। নদীতে পাইপ ও ড্রাম বসানোর কারণে নৌযান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘যেকোনোভাবে পাইপের মাধ্যমে গ্যাস এনে রান্নার কাজে ব্যবহার করছি। তবে এই গ্যাস সবসময় পাওয়া যায় না। একদিন রান্না করলে কয়েকদিন ব্যবহার করতে পারি না।’
২০০৭ সালে তিতাস গ্যাস ফিল্ডের তিন নম্বর কূপ খননের সময় লিকেজ হয়ে গ্যাস মাটির উপরের স্তরে চলে আসে। এরপর মাটির ফাঁকফোকর ও নদীর পাড় দিয়ে গ্যাস উদগিরণ শুরু হয়। উদগিরণ বন্ধে ব্যর্থ হয়ে সংশ্লিষ্ট কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘চাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ করা মারাত্মক বিপজ্জনক। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন সুলতানা জানান, ‘এই অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব। যারা এই কাজে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী একটি চক্র এই গ্যাস সংযোগ দিয়ে বড় ধরনের বাণিজ্য করছে। এতে বিপদ বাড়ছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস ব্যবহারে যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।
লিটন হোসাইন জিহাদ/এমজে

