মাদারীপুরে ২ এএসআইয়ের মদ্যপ অবস্থায় অশ্লীল নৃত্য ভাইরাল
বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি
মাল্টিমিডিয়া করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:১১
মাদারীপুরের রাজৈর থানা পুলিশের দুই উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই)-এর নারীদের সঙ্গে অশ্লীল নৃত্যের কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাদের সাথে দেখা গেছে রাজৈর উপজেলা যুবলীগের কয়েক নেতাকেও। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্তের পর তাদের ক্লোজড করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে।
ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার দুই এএসআই, মো. হাদিবুর রহমান ও স্বপন অধিকারী মদ্যপ অবস্থায় একাধিক নারীকে নিয়ে নাচছেন। একসময় এক নারীকে কোলে তুলে চুম্বন করছেন এবং সিগারেট ফুঁকছেন। এছাড়াও যুবলীগের কয়েক নেতাও ওই কক্ষে নৃত্যে অংশ নেন। ভিডিওতে রাজৈর উপজেলা যুবলীগ নেতা রাহাত হোসেনকেও দেখা গেছে, যিনি খাটে বসে নারীদের নৃত্য উপভোগ করছেন।
স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের নটাখোলা জগদীসের বাড়ি এবং আনন্দপুরের ভবত শের বাড়িতে মাঝে মধ্যেই এই ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মদ্যপান, গাঁজা এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় কিছু যুবলীগ নেতাও সেখানে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত।
এ বিষয়ে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, ‘পুলিশ বাহিনী শৃঙ্খলা মেনে কাজ করে। আইনের বাইরে কিছু করা যায় না। অভিযুক্তদের বিষয়ে জানার পর তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের ক্লোজড করা হয়েছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন ভিন্ন কথা বললেন অভিযুক্ত দুই উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক। এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বপন অধিকারী বলেন, ‘আমি বিনদাস মানুষ, মাঝে মধ্যে একটু আমোদ ফুর্তি করি। অনেক সময় আসামি ধরতে নানা কৌশল নিতে হয়। এতে যদি অন্যায় হয়, তাহলে আমি দোষী। আর অন্যায় না হলে কিছু করার নেই।’
অন্যদিকে, মো. হাদিবুর রহমান বলেছেন, ‘আমার জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুবান্ধব মিলে আনন্দ-ফুর্তি করেছিলাম। কিন্তু ভিডিওটি কে ভাইরাল করেছে, তা আমি জানি না। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে।’
মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুলিশ সদস্যরা শৃঙ্খলা মেনে কাজ করেন। অভিযুক্তদের পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বিভাগীয় মামলা করা হবে।’
এছাড়াও, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, আসামি না ধরার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ সহকর্মী ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে চাননি।
যুবলীগ নেতা রাহাত হোসেন পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
একে/এমএইচএস

