গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ‘পলো বাওয়া’ উৎসব
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি গ্রামে পলো বাওয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে আবুল কাশেমের ইজারাকৃত পুকুরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী উৎসব চলে।
জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ার এই মৌসুমে পলো নামক বাঁশ-বেতের তৈরি ঝাঁপি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব প্রাচীনকাল থেকে গ্রামীণ জনপদে প্রচলিত। এবারের উৎসবে গাজীপুরসহ ময়মনসিংহ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পুকুরপাড়ে হাজারো মানুষ এ উৎসব উপভোগ করেন।
সকাল ১০টায় পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পলো হাতে নিয়ে শিকারীরা পুকুরে নামেন। হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে একটানা চার ঘণ্টা ধরে চলে মাছ ধরা। শোল, রুই, চিতল, কাতল ও তেলাপিয়াসহ নানা প্রজাতির বড় মাছ ধরা পড়ে। মাছ ধরার পর আনন্দ নিয়ে শিকারীরা বাড়ি ফেরেন।
পুকুরের ইজারাদার আবুল কাশেম জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে পলো বাওয়ার আয়োজন করা হয়। পুকুরের মাছ শিকার করতে প্রতি শিকারীকে আটশত টাকা দিয়ে অংশ নিতে হয়েছে। এবার ১৩০ জন শিকারী অংশগ্রহণ করেন এবং মাছের পরিমাণও ভালো ছিল।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর থেকে আসা শিকারী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘পলো বাওয়া উৎসব আমার কাছে খুবই মজার। শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমি এ উৎসবে অংশ নিই। এটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
নরসিংদী থেকে আসা শিকারী রিয়াজ বলেন, ‘নদীতে এখন আর মাছ পাওয়া যায় না। তাই আমরা বিভিন্ন জায়গায় পুকুর ভাড়া নিয়ে মাছ ধরি। পলো বাওয়া আমাদের শখ। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা একত্রিত হই এবং এ ধরনের আয়োজনের খোঁজ পাই।’
শ্রীপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফউল্লাহ বলেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী আনন্দ উৎসব। তবে মাছের সংখ্যা বাড়াতে অভয়াশ্রম তৈরি করা ছাড়া বিকল্প নেই।’
আতাউর রহমান সোহেল/এমআই

