Logo

সারাদেশ

নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গীতিকার রাজিবের সৃষ্টিশীল সাধনা

Icon

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:২৩

অ
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গীতিকার রাজিবের সৃষ্টিশীল সাধনা

কিছু মানুষ আছে যারা নীরবে নিভৃতে থাকতে পছন্দ করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অর্থনীতি, উন্নয়ন, সংস্কৃতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। আবার অনেকেই আছেন, যারা সারা জীবন দিয়েই যান, বিনিময়ে কিছুই পান না। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, এই মানুষগুলো নীরবে নিভৃতে ত্যাগ করে চলেছেন, যা তারা নিজেরাও বুঝতে পারেন না। 

তেমনই একজন গীতিকার নাজিরুল ইসলাম রাজিব। যিনি গানকে ভালোবেসে তার মেধা ও মনন দিয়ে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গান লিখছেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে দেশের খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক একুশে পদকপ্রাপ্ত সুরকার শেখ সাদী খান সুর করেছেন। এছাড়া মুম্বাইয়ের সংগীত পরিচালক কিশোর কুমারের ছেলে রকেট মণ্ডল তার গানে সংগীত আয়োজন করেছেন। তার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারের কণ্ঠশিল্পী সোহেল সামি, খুলনা বেতারের শিল্পী ডা. আহসান কবিরসহ দেশের পরিচিত কণ্ঠশিল্পীরা।

গীতিকার নাজিরুল ইসলাম রাজিবের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৭ সালের ২৮ জানুয়ারি শহিদুল ইসলাম ও রোকেয়া বেগম দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চার ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বর্তমানে শৈলকুপা পৌরসভায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১৩ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

২০০৭ সালে অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি গান লেখার নেশায় জড়িয়ে পড়েন। তখন থেকেই নীরবে নিভৃতে রচনা করে চলেছেন অসংখ্য গান। তার গানে প্রেম, ভালোবাসা, বিরহের গল্প ফুটে ওঠে। উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো— কিছু কিছু সুখ থাকে বিরহ ব্যথাতে, দুঃখী মানুষ, দুঃখী মনটা আমার, তুমি বসন্ত অতিথি হয়ে এলে, রূপালি বাংলার সোনালি সূর্য, আমার এক চোখে অথই শ্রাবণ। গানগুলো বিভিন্ন অ্যালবামের মাধ্যমে ছাড়াও ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে আশ্চর্যের বিষয়, তিনি কখনোই কোনো গানের গীতিকার হিসেবে পারিশ্রমিক পাননি। এ নিয়ে তার কোনো আফসোসও নেই। তিনি জানান, নিজের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে গান লেখেন এবং কখনো কিছু পাওয়ার আশা করেননি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের খবরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন গীতিকার নাজিরুল ইসলাম রাজিব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি এম বুরহান উদ্দীন।

বাংলাদেশের খবর : গান লেখার প্রতি আপনার আগ্রহ কেন?

রাজিব : ইচ্ছা ছিল ভালো কিছু করার। গানের মাধ্যমে আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। হয়ত একদিন আমার অনুভূতির তৃপ্ততা-অতৃপ্ততা মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, এই আশায় গান লিখছি।

বাংলাদেশের খবর : পরিবারের পক্ষ থেকে আপনি কেমন সাপোর্ট পেয়েছেন? অথবা তাদের কাছ থেকে কোনো চাপ ছিল কি?

রাজিব : পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাপোর্ট পাইনি। শুধু আমার মা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তবে চাপ ছিল। কারণ, জীবনযাত্রার মূল স্রোতে চলতে না পারার বিষয়টি সবসময়ই পরিবারের জন্য একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের খবর : আপনি অনেক বছর যাবৎ গান লিখছেন। কোনো আর্থিক সম্মানী পেয়েছেন কি?

রাজিব : না, আমি কখনোই গান লিখে আর্থিক সম্মানী পাইনি।

বাংলাদেশের খবর : তবুও গান লিখছেন। ছাড়ছেন না। এর কারণ কী?

রাজিব : আসলে সম্মান এবং সম্মানী কাজের স্পৃহা বাড়ায়। তবে আমি সৃজনশীল কাজের আনন্দকে সম্মানের চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করি।

বাংলাদেশের খবর : আপনি এতগুলো গান লিখেছেন। শিল্পীরা তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন, তারা পরিচিতি পেয়েছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবানও হয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার কী মতামত?

রাজিব : জন্ম এবং মৃত্যুর মধ্যে মানুষের সমাপ্তি হয়। কিন্তু সৃজনশীল কাজই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। এই বিশ্বাস থেকেই গান লিখে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের খবর : কোনো প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম যদি আপনার গানগুলোতে আর্থিক বা অন্যান্য সুবিধা দিতে চায়, তাহলে আপনার সিদ্ধান্ত কী হবে?

রাজিব : আর্থিক সম্মানী পাওয়ার ইচ্ছা থাকলে হয়তো অনেক আগেই গান লেখা ছেড়ে দিতাম। তবে এ ধরনের প্রস্তাব এলে সেটি অবশ্যই ভাবতে হবে।

বাংলাদেশের খবর : অনেকেই আছেন যারা সাংস্কৃতিক মনোভাব পোষণ করেন, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে থেমে যান। তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

রাজিব : থেমে যাওয়ার কিছু নেই। মানুষের মধ্যে উৎকৃষ্ট মনোভাব পৌঁছে দেওয়াই শিল্পীর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের খবর : কখনো কাউকে ভালোবেসেছেন?

রাজিব : ভালোবাসার হতাশা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। তবে এখান থেকেই প্রিয় মানুষকে নতুনভাবে এবং ভিন্ন স্বাদে ভালোবাসার বার্তা দেওয়া যায়।

বাংলাদেশের খবর : তবে মূল প্রশ্নটি একটু এড়িয়ে গেলেন না?

রাজিব : সাংস্কৃতিক মানুষের সব কথা জানতে নেই। কিছু উত্তর বুঝে নিতে হয়।

বাংলাদেশের খবর : আপনি কী চান?

রাজিব : আমি চাই আমার গানগুলো মানুষের মাঝে পৌঁছে যাক।

বাংলাদেশের খবর : মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা আপনার সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

রাজিব : আমার মতো একজন নগণ্য মানুষকে নিয়ে আগ্রহ দেখানোর জন্য আপনাকে এবং পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এম বুরহান উদ্দীন/এমএইচএস

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন