Logo

সারাদেশ

মসজিদের ১০ কোটি টাকা লোপাট, দুই বছরেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান

Icon

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:১৫

অ
মসজিদের ১০ কোটি টাকা লোপাট, দুই বছরেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপুল অর্থ সম্পদ লোপাটের অনুসন্ধান কার্যক্রম দুই বছরেও শেষ করতে পারেনি দুদক। এতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তবে দুদক সূত্রের দাবি, অনুসন্ধান প্রায় শেষের পথে। শীঘ্রই দুদক বাদী হয়ে অভিযুক্তদের নামে মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এর আগে, ২০২৩ সালের আগস্টে মসজিদের বিপুল অর্থ সম্পদ লোপাটের অভিযোগে আদালতে দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক প্রধান কার্যালয়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতাদের মসজিদের অর্থ সম্পদ কেলেঙ্কারীর অনুসন্ধানে পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের সমন্বয়ে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে দুদক। 

অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনায় ইতোমধ্যে সকল তথ্য-উপাত্ত দুদকের হাতে পৌঁছালেও অবৈধ উপায়ে মসজিদ কমিটির সম্পত্তি বিক্রির রেজুলেশনসহ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহে পর পর তিনবার স্মারকযুক্ত চিঠি দিলেও গড়িমসি করছে মসজিদ কমিটি। তবে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলছে সূত্রটি।

২০২৩ সালের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারি পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান, তার স্ত্রী সুরাইয়া নাসরিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ, সাব-রেজিস্টারসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মসজিদের ১০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন মসজিদের কার্যকরী পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল হান্নান বেপারী। বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত ১ মার্চ (২০২৩) অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) সেগুন বাগিচা, ঢাকাকে তদন্তের নির্দেশ দেন ।

সূত্র মতে, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতারা মসজিদের অনুকূলে উপজেলা প্রশাসনের সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের বরাদ্দ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দের সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসকল সরকারি অনুদানের স্মারক নম্বর, চেক নম্বর ও গ্রহণের তারিখ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ওয়াকফ্ অর্ডিন্যান্স ১৯৬২ এর ৫৬ (১) ধারা মোতাবেক মসজিদের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রিতে ওয়াক্ফা-এর অনুমতি নেওয়ার বিধান থাকলেও তা উপেক্ষা করে ১১টি ছাপকবলা দলিলের মাধ্যমে আসামিরা স্ত্রী, স্বজনের নামে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি দেখিয়ে বিপুল সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা রাকিবুলের দেশত্যাগ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ ইহকাল ত্যাগ করায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতসহ মসজিদের স্বার্থ রক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, ওয়াকফ্ অর্ডিন্যান্স ১৯৬২-এর ৫৬ (১) ধারা মোতাবেক মসজিদের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রিতে ওয়াক্ফ পরিদর্শকের অনুমতি থাকতে হয়। কিন্তু আসামিরা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে মসজিদের অর্থ সম্পদ লোপাটে মরিয়া ছিলেন। এছাড়া সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার সত্যতা মিলেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। মসজিদের সম্পদ স্বল্পমূল্যে ক্রয়কারী অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজনরাও আসামির তালিকায় যুক্ত হতে পারেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি।    

এদিকে মোটা দাগের এ অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান রাকিবুল আহসান বলেন, মসজিদ নির্মাণ ও সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। ইউএনও ও কমিটির সভাপতি মিটিং করে অনুমোদন নিয়ে সবকিছু করা হয়েছে।  

মসজিদ কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম দুদকের পত্র প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ’মসজিদের সকল তথ্য-রেকর্ডপত্র সরবরাহে এসিল্যান্ডকে প্রধান করে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে দুদকের চাহিত সকল তথ্য, রেকর্ডপত্র সরবরাহ করা হবে।’

এ বিষয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী’র সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বলেন, ’মসজিদের সকল তথ্য-রেকর্ডপত্র চেয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি, ইউএনওকে পর পর তিনটি পত্র দেওয়া হয়েছে। চাহিত রেকর্ড পত্র পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট দেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জাকারিয়া জাহিদ/এটিআর

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন