মেঘনায় নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহারে ভেসে উঠছে মরা মাছ
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ২০:২৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
পদ্মা-মেঘনায় শীত মৌসুমে পানি কম থাকায় এবং ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ জেলে ছোট মাছ শিকার করতে বিভিন্ন ধরণের ফাঁদ ব্যবহার করছেন।
ফলে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছসহ জলজ অনেক প্রাণি মারা পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরতে নদীতে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব বিষক্রিয়া ও অবৈধ জালের কারণে মাছ মরে তীরে ভেসে উঠছে। বিষয়টি বের করতে নদীর পানির নমুনা সংগ্রহ করছে গবেষকরা। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, নদীতে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে অবৈধ জালের ব্যবহারের কারণে।
মৎস্য বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশ দপ্তরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদপুর নৌ সীমানাসহ মেঘনার ওপরের অংশে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের দিকে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে এ বছর এখনও পর্যন্ত নদীর পানি জলজ প্রাণির জন্য অনুকূল রয়েছে। গেল বছর নদীতে দূষণের সময় মৎস্য বৈজ্ঞানিকরা পানির নমুনা সংগ্রহ করে এবং দূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যায়।
গত কয়েক দিনে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে শুরু করে মোহনপুর পর্যন্ত মেঘনা নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত নৌকা ছোট ফাঁদ দিয়ে মাছ ধরছে। তবে তারা দিনের তুলনায় রাতেই বেশি মাছ শিকার করছে। গত এক সপ্তাহে মেঘনার ওপরের অংশ, অর্থাৎ ষাটনলের উজানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জেলেদের জালে ধরা পড়া খাওয়ার অনুপযোগী মাছ নদী থেকে মরে তীরে ভেসে উঠছে। স্থানীয়রা এই মাছ মরে ভেসে ওঠার জন্য নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহারের কারণ দেখাচ্ছেন।
ষাটনল এলাকার বাসিন্দা ছামাদ প্রধানিয়া জানান, ‘মাছ ধরার জন্য সরাসরি বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব বিষক্রিয়ার কারণে ছোট মাছসহ অনেক জলজ প্রাণি মরে পাড়ে ভেসে উঠছে।’
মোহনপুর এলাকার জেলে বাবুল ও লতিম মিয়া বলেন, ‘এই সময়ে অধিক পরিমাণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছ মরে যাচ্ছে। বড় ফাঁদে এই ধরনের ছোট মাছ ধরা পড়েনা এবং মরার প্রশ্ন আসে না।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘কিছু অসাধু জেলে রয়েছে, যারা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও অবৈধ মশারি জাল ব্যবহার করে নদীতে মাছ শিকার করছে। ওই জালের নীচের অংশে ছোট ছিদ্র থাকায় রেনু পোনা বের হতে পারেনা। ফলে খাওয়ার অযোগ্য মাছগুলো নদীতেই ফেলে দেয়া হয়।’
পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা গবেষণাগারের সিনিয়র ক্যামিস্ট মাসুদ রানা বলেন, ‘নদীতে বিষ প্রয়োগ ও পানির প্রকৃত অবস্থান জানার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণাগারে নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’
এ বিষয়ে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবু কাউছার দিদার বলেন, ‘কলকারখানার বর্জ্য সারা বছর জুড়ে নদীতে আসে না। বছরের শেষের দিকে এক সময় তারা এসব বর্জ্য নদীতে একবারে অপসারণ করে। তখন পানির মধ্যে অক্সিজেন সমস্যা দেখা দিতে পারে। গত বছর এমন পরিস্থিতি হওয়ার পর আমরা ষাটনল এলাকায় গিয়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি এবং অ্যামোনিয়ার মাত্রা জিরো থেকে এক ভাগ পেয়েছি। এবছরও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’
আলআমিন ভূঁইয়া/এমআই

