Logo

সারাদেশ

মেডিকেলে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বৃষ্টি

Icon

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৫:৪৯

অ
মেডিকেলে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বৃষ্টি

ফারজানা আক্তার বৃষ্টি ফেনী শহরের হোসাইনীয়া মাদ্রাসা রোডের ভাঙ্গারি দোকারি খুরশিদ আহম্মাদের মেয়ে। মেডিকেলে চান্স পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না। তার গ্রামের বাড়িতে বসতভিটাও নেই। 

বৃষ্টির বাবা খুরশিদ আহম্মাদ জানান, ফেনীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহীন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে ফেনী সরকারি কলেজ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলের মাঝে বৃষ্টি বড়। পরীক্ষা শেষ করে উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে কোচিং করেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফরিদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন। কোচিং ও ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরির পর তার ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। হোসাইনীয়া মাদ্রাসা রোডে ভাঙ্গারি দোকানটাও ছেড়ে দিতে হয়েছে। 

তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ভ্যানগাড়ি করে বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরাতন বোতল, প্লাস্টিক ও ভাঙ্গারি সরঞ্জাম সংগ্রহ করে দিনশেষে ৩-৪ শ টাকা রোজগার করেন। যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়।

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাশিমপুর গ্রামের ফয়েজ আহম্মাদের ছেলে খুরশিদ। তার বাড়িতে বসতভিটা না থাকায় হোসাইনীয়া মাদ্রাসা রোডে খোদেজা মঞ্জিলে ভাড়া বাসায় থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও আশ্রয়ণ ‍প্রকল্পের ঘর পাননি। গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার খবর পেয়ে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক লিটনের কাছে বারবার ধর্না ধরেছেন। তবু কাজ হয়নি।

খুরশিদ জানান, বর্তমানে মেয়েকে মেডিকেল কলেজে পড়ানোর স্বপ্ন যেন বাস্তবতবায়ন করতে পারেন, সে জন্য বৃত্তবানদের কাছে ঘুরেও এখনো কোনো সফলতা পাননি। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে আনুসঙ্গিক খরচসহ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আজকে পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা ব্যবস্থা হয়েছে। মেয়েকে মেডিকেলে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেকটা বেহুঁশ হয়ে আছেন। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে মেয়ের মেডিকেলে ভর্তির জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে সবার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

বৃষ্টি জানান, তার ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে মানবিক চিকিৎসক হওয়ার। বিনা টাকায় সমাজের গরিব-দুঃখী মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কিন্তু ডাক্তারি পড়াশোনা করতে বড় অংকের টাকা প্রয়োজন সেটা তার মাথায় কখনো ছিল না। গরিব বাবার পক্ষে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার টাকা জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না দেখে তিনি অনেকটা হতাশ। তবে হতাশায় তাকে স্বপ্নভঙ্গ করতে পারবে না বলে তিনি এখনো আশাবাদী। মেডিকেলে ভর্তি মানবিক চিকিৎসক হওয়ার জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন।

এমরান পাটোয়ারী/এমজে

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন