Logo

সারাদেশ

চাঁদপুরে বেড়েছে আলুর আবাদ

Icon

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:১৯

অ
চাঁদপুরে বেড়েছে আলুর আবাদ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

গতবছর আলুর বাজার দর বাড়তি থাকার কারণে এ বছর চাঁদপুরে আলু আবাদে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। একইসঙ্গে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখন পর্যন্ত জমির অবস্থাও ভালো। জমিগুলোতে এখন চলছে পরিচর্যা। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ভালো থাকলে আলুর বাম্পার ফলন হবে।  

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলায় গতবছর আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর। এবছর আবাদ বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ২ হেক্টর। সবচাইতে বেশি আবাদ হয়েছে জেলার দুই সেচ প্রকল্পের বাহির এলাকায়। এর মধ্যে মতলব দক্ষিণ ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কচুয়া ২ হাজার ২৫ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ১হাজার ৭২ হেক্টর।

সরেজমিনে সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর, চান্দ্রা, বালিয়া, বাগাদি, আশিকাটি, শাহমাহমুদপুর, হাইমচর উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়ন, মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদি দক্ষিণ এবং পৌর এলাকায় দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতে কৃষকরা পরিচর্যার কাজ করছেন। আবার অনেকে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন।

বিষ্ণপুর ইউনিয়নের দনপর্দি গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুমে আলু আবাদের পর নাবী দশা নামক রোগ দেখা দেয়। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও আমরা আগ থেকেই সতর্ক। প্রতিটি আবাদি জমিতে কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে।

একই এলাকার আলু চাষি সুরুজ মিয়া বলেন, তিনি এ বছর ৬০ শতাংশ জমিতে এবং তার ভাতিজা শরীফ মিজি দনপর্দি মাঠে ৩ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। তবে তাদের জমিতে এ বছর নিজস্ব বীজ লাগিয়েছেন। কারণ, মৌসুমের ওই সময়টাতে বীজের বক্স আলুর দাম কয়েকগুণ বেশি ছিল। এখন পর্যন্ত তাদের জমির অবস্থা ভালো।

আশিকাটি এলাকার কৃষক ছাত্তার মিয়া ও আফজাল হোসেন বলেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে এবং ফলনও ভালো রয়েছে। আলুর বাজার দর ভালো থাকলে তারা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

সদরেরবালিয়া এলাকার কৃষক ইব্রাহিম খান বলেন, জানুয়ারি মাসে বাজারে আলু চলে এসেছে। তবে এসব আলু চাঁদপুরের নয়, মুন্সীগঞ্জ থেকে আমাদের বাজার দখল করেছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের জমিগুলোর আলু উঠা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দাম ভালো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চাইতে প্রায় ৫শ’ হেকর জমিতে আলুর বেশি আবাদ হয়েছে। ‘নাবী দশা’ রোগের কারণে কৃষকরা উদ্বিগ্ন থাকলেও কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত জমির অবস্থা ভালো। আশা করছি আলুর বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।

আলআমিন ভূঁইয়া/এটিআর


Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন