মেয়েকে উত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ২ গ্রামের সংঘর্ষ
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:৩০
শেরপুরে বনভোজনের বাসে থাকা এক মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ও শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পাঁচজনকে আটক করে।
এলাকাবাসী জানান, শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কান্দাশেরীরচর এলাকায় শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি সূর্যমুখীর বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় যানজটে আটকে থাকা বনভোজনের বাসে এক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে সদরের কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের এক যুবক।
পরে কান্দাশেরীরচর গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে ওই উত্যক্তকারীকে মারধর করে। এরপর কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের লোকজন খবর পেয়ে দল বেঁধে কান্দাশেরীরচর গ্রামে হামলা চালালে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় কুসুমহাটি বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও একটি মোবাইলের দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, শনিবার সকাল থেকে মাইকিং করে কান্দাশেরীরচর ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের দু’পক্ষ কুসুমহাটি বাজারে শেরপুর-জামালপুর সড়কের দুইপাশে অবস্থান নেওয়া শুরু করলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পাঁচজনকে আটক করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের হয়নি। রাতে দুই গ্রাম প্রস্তুতি নিয়েছিল আমরা সরিয়ে দিয়েছি। আজ (শনিবার) সকাল থেকে দুই গ্রামের লোকজন মাইকিং করে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
শাহরিয়ার শাকির/এমজে

