রাতের আঁধারে সীমান্তের শূন্যরেখায় সিসি ক্যামেরা বসাল বিএসএফ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:২৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বাঁশজানী সীমান্তে শূন্যরেখায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশের দিকে তাক করে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ভারতীয় বিএসএফ ছোট গাড়ল ঝড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।
জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশজানি সীমান্তের আন্তর্জিাতীক সীমানা পিলার ৯ এস এর ৯৭৮ নম্বর সীমানা পিলারের পাশে শূন্যরেখার একটি ইউক্লিপটাস গাছে রোববার রাতে বাংলাদেশের দিকে তাক করে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ভারতীয় বিএসএফ ছোট গাড়ল ঝড়া ক্যাম্পের সদস্যরা।
পরে সোমবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি বিজিবেকে জানালে বিজিবি বিএসএফকে ডেকে এর কড়া প্রতিবাদ জানায়। সিসি ক্যামেরা অপসারণ করতে বলে। তবে বিকেল পর্যন্ত এ নিয়ে বিজিবি–বিএসএফের একাধিক আলোচনা হলেও ক্যামেরা খোলেনি বিএসএফ।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বাঁশজানি ঝাকুয়াটারী সীমান্তে স্থাপিত ২০০ বছরের পুরাতন আলোচিত দুই দেশের এক মসজিদটি পুনর্নির্মাণ চলছে। এই মসজিদকে ঘিরে বিএসএফ সন্নিকটে রাতের আঁধারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। যেটি এলাকাবাসীর নিরাপত্তার সংকট সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ বাঁজানি ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের মসজিদটিতে ভারত–বাংলাদেশের মানুষ নামাজ পড়েন। মসজিদটি আমাদের পূর্বপুরুষরা স্থাপন করেছেন। দেশভাগের সময় গ্রামের মাঝ দিয়ে সীমান্তরেখা টানা হলেও আমাদের সম্পর্ক ভাগ হয়নি। তখন থেকে আমরা একসাথে একই মসজিদে নামাজ পড়ি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদটি পুরাতন হয়ে গেলে নুতুন করে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বিএসএসফ বাধা দেয়। তাদের বাধায় দুই বছর থেকে মসজিদের কাজ বন্ধ রয়েছে। এবার রাতের আঁধারে তারা সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে গেছে। এতে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্ন হচ্ছে। বিজিবি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যেতে বললেও তা করেনি বিএসএফ।’
কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল মাসুদুর রহমান বলেন, ‘শূন্যরেখায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারা ক্যামেরা অপসারণের আশ্বাস দিয়েছেন।’
ফজলুল করিম ফারাজী/এমজে

