অগ্নিকাণ্ডে ৩২টি ঘর পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ১৭ পরিবার
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:০৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে আগুনে পুড়ে গেছে ৩২টি ঘর, যার মধ্যে গরু, ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৭টি পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ব্রম্মোত্তর পশ্চিম পাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ধান-চাল, নগদ অর্থসহ সব ধরনের মালামাল পুড়ে যায়। এ সময় ২টি গরু ও ২টি ছাগলও মারা যায়। খবর পেয়ে সৈয়দপুর ও রংপুর তারাগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টা পরিশ্রম করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত সেকেন্দার আলী জানান, তার দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরসহ মালামাল পুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার ভাই সাইদুল ইসলামেরও সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। একই পাড়ার বাদশা মিয়ার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছে। আব্দুল কাদের ও তার পরিবারের ৭টি শোয়ার ঘর, ২টি রান্নাঘর, নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১টি গরু পুড়ে যাওয়ায় তাদেরও প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লানচু হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আগুনে পুড়ে প্রায় ১৬-১৭টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’
তারাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফ আব্দুল্লাহ জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করি এবং উদ্ধার কাজ করি। রাস্তা সরু হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে।’
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফইম উদ্দীন বলেন, ‘শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’
তৈয়ব আলী সরকার/এমআই

