Logo

সারাদেশ

জাল সনদে চাকরি, নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

Icon

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:৪৩

অ
জাল সনদে চাকরি, নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আছিয়া খাতুনের (৪০) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দীর্ঘ আট মাস ধরে তিনি ভুয়া সনদে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন তিনি।

এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক নির্দেশনার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসার সুপার আবু তাহের পালোয়ান বাদী হয়ে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।  

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আছিয়া খাতুন তৃতীয় গণ বিজ্ঞপ্তির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (মৌলবী) পদে নিয়োগ পান। কিন্তু পরবর্তীতে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র ভুয়া।  

সন্দেহের ভিত্তিতে যাচাইয়ের জন্য তার সনদ তলব করা হলে তিনি তা যথাসময়ে দাখিল করতে ব্যর্থ হন। ফলে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে তার সরকারি বেতন ভাতা স্থগিত করা হয়। পরে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে তার নিবন্ধন সনদটি সঠিক নয় এবং সেটি বাতিল করা হয়।  

এরপর ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন আছিয়া খাতুন। মাদ্রাসার সুপার ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ এমপিও বন্ধের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন। পরে এনটিআরসিএ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়।    

মাদ্রাসার সুপার আবু তাহের পালোয়ান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেছি।’  

একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল করে কেউ চাকরি নিতে পারে, এটি তারা আগে জানতেন না। অভিযুক্ত আছিয়া খাতুন টেপিরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এমন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।’  

অভিযুক্ত শিক্ষক আছিয়া খাতুনের স্বামী টিএম জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপার ও এক সহকারী শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন, পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ১০ লাখ টাকা দিলে নিয়োগ পাওয়া সম্ভব। আমি দুই দফায় ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। এরপর আট মাস চাকরি করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছে। কিন্তু এখন সুপারই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। 

শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ‘জাল সনদে চাকরির অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মামলা করেছেন। পিবিআই তদন্ত করছে। মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতিও টাকা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানি না। উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে বলতে পারবেন।”

আতাউর রহমান সোহেল/এমআই

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন