তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ পাই জাল আটককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:৩৭
পটুয়াখালীর বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ পাই জাল আটককে কেন্দ্র করে বাউফল ও ভোলার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া এলাকার তেঁতুলিয়া নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের কিছু সচেতন জেলে নদীতে মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত অবৈধ পাই জাল ও মশারি জাল আটক করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভোলার কিছু জেলে তাদের ওপর হামলা চালায়, এতে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে প্রশাসনের লোকজন আসার খবর পেয়ে ভোলার জেলেরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি মৎস্য কর্মকর্তাকে জানালে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে একজন প্রতিনিধি এসে জব্দকৃত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সমমূল্যের জাল পুড়িয়ে দেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রভাবশালী একটি চক্র ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার অনুমতি দিচ্ছে। ফলে আইন থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।
একাধিক জেলে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা নদী ও মৎস্য সম্পদ রক্ষার চেষ্টা করছি, কিন্তু প্রশাসন আমাদের সহায়তা করছে না। বরং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা টাকা দিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন যেন দেখেও দেখছে না।’
বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘পাই জাল, বেহুন্দি, মশারি, চট জাল ও কারেন্ট জালের মতো অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এসব জালের কারণে ছোট মাছ ধরা পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে মাছের প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে মৎস্যসম্পদের ওপর, যা জেলেদের ভবিষ্যৎ জীবিকাও সংকটে ফেলতে পারে।’
প্রশাসনের পদক্ষেপ নেই—অভিযোগ করে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মৃধা বলেন, ‘এই তেঁতুলিয়া নদীতে আমাদের অনেকের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এই নদী আমাদের একমাত্র সম্পদ। নদীতে মাছ ধরেই আমাদের সংসার চলে। কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরে নদীর ক্ষতি করছে। এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, কিন্তু বাউফল প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলেরা অবৈধ জালের তথ্য দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান চালাই। ভোলার কিছু লোক মাঝে মাঝে এসে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করে। দুই সপ্তাহ আগে আমরা তথ্য পেয়ে অভিযান চালালে তারা স্পিডবোট নিয়ে পালিয়ে যায়। আজকে তারা ১০০-১৫০ জনের মতো এসেছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুরো জাল আটক করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
আরিফুল ইসলাম সাগর/এমএইচএস

