বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের হিড়িক
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৮
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসানাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ হোসেন। তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঘোষিত ২১৭ সদস্যের মধ্যে ১৭০ জন পদত্যাগ করে কমিটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত কমিটির একাধিক সদস্য পদত্যাগ ও কমিটি বয়কটের এ ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদ শিহাব, সাকিব হোসেন ও সাগর হোসেন।
তারা বলেন, ‘জুলাই ও আগস্ট মাসে যারা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেকেই এই কমিটিতে জায়গা পাননি। বরং এমন অনেকের নাম যুক্ত করা হয়েছে, যারা জানতেনই না যে তারা কমিটিতে রয়েছেন। হাজীগঞ্জ উপজেলায় ঘোষিত ১৯ সদস্যের সবাই পদত্যাগ করেছেন।’
মুজাহিদ শিহাব বলেন, ‘এখন থেকে আমরা কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা মানব না। আমরা জুলাই-আগস্টের চেতনা ধারণ করে জনগণের স্বার্থে কাজ করব।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘোষিত কমিটিতে অনেকের পদবি তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। কেউ কেউ অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মী হওয়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে কমিটি থেকে সরে যাচ্ছেন।
পদত্যাগের বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে জানানো হবে এবং তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পদত্যাগকারী শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে ২১৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিম পাটওয়ারীকে।
এ ছাড়া চাঁদপুর সরকারি কলেজের রাকিব ভূঁইয়াকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে ২৩ জনকে। চাঁদপুর সরকারি কলেজের সৈয়দ সাকিবুল ইসলামকে সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে জুবায়ের ইসলাম আসিফসহ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে ২৫ জনকে। মুখ্য সংগঠক একজন, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক একজন, সংগঠক ৫৭ জন, মুখপাত্র একজন, সিনিয়র সহ মুখপাত্র একজন, সহ মুখপাত্র তিন জন ও ১০১ জনকে সদস্য করা হয়েছে।
বুধবার সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ কমিটিতে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্থান পেয়েছে।
আলআমিন ভূঁইয়া/এটিআর

