তালামিয কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের অস্বীকার
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:৪৩
সিলেটের এমসি কলেজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করায় মিজানুর রহমান রিয়াদ নামে এক তালামিয কর্মীর ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ছাত্রশিবিরের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে কলেজের ছাত্রাবাসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত রিয়াদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ১ম ব্লকের ১০১ নং কক্ষে থাকেন।
রিয়াদের রুমমেট বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র জুনেদ আহমদ জানান, রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় দরজায় আঘাতের শব্দ পান। দরজা খুললে ‘এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জওহর লুকমান মুন্নার নেতৃত্বে ১০-১২ জন শিবিরকর্মী রুমে ঢুকে রিয়াদকে লাথি দিয়ে বিছানা থেকে নিচে ফেলেন।’
জুনেদ আহমদ বলেন, ‘হামলাকারীরা রিয়াদকে জিজ্ঞেস করেন, কুয়েটের ঘটনায় তুই শিবিরকে নিয়ে কী লিখেছিস। কোনো উত্তরের তোয়াক্কা না করেই তাকে চড়-থাপ্পড়, লাথি-ঘুষি মারতে থাকেন শিবিরকর্মীরা। এক পর্যায়ে পাশের রুম থেকে রড নিয়ে রুমে প্রবেশ করে নাজমুল ও সালমান। রিয়াদের রুমমেট জুনেদ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে রুমের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।’
জুনেদ আহমদ বলেন, ‘দরজা লাগিয়ে রড দিয়ে বেধড়ক পিটানো হয় রিয়াদকে। এক পর্যায়ে তারা আদনান বলেন- তুই পরে যে অপবাদ দিবি, আগেই সেটি করে নেই। এই বলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিয়াদের পায়ের রগ কাটার চেষ্টা করেন আদনান। এ সময় রুমের বাইরে থাকা জুনেদের চিৎকারের ছাত্রাবাসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কর্মচারী জড়ো হন। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় রিয়াদকে রুমের বাইরে টেনে বের করে ফেলে চলে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিবির নেতাকর্মীরা যাওয়ার সময় ১০১ নং রুমে তালা দিয়ে রিয়াদ ও জুনেদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে চলে যান।’
রিয়াদের সহপাঠীরা জানান, মিজানুর রহমান রিয়াদ জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি নিউজের কমেন্টে লিখেন- কীসের জন্য এত ত্যাগ করলাম। দিনের বেলা পুলিশের টিয়ারশেল আর লাঠিচার্জ। রাতে পালিয়ে থাকলাম। সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের স্বপ্নে এত ছাত্র প্রাণ দিল। এখন যদি গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বসেন তাহলে এ ত্যাগের মূল্য কী?
রিয়াদের এ কমেন্ট এমসি কলেজ শিবিরের নজরের আসে। এরপরই তার উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি শাহিন আহমদ বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অহেতুক দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শাহপরাণ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
রেজাউল হক ডালিম/এমবি

