Logo

সারাদেশ

যাত্রীবেশে চলন্ত বাসে ডাকাতি-শ্লীলতাহানি, ৩ দিন পর মামলা

Icon

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪৫

অ
যাত্রীবেশে চলন্ত বাসে ডাকাতি-শ্লীলতাহানি, ৩ দিন পর মামলা

ছবি : সংগৃহীত

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের জিম্মি করে শ্লীলতাহানির ঘটনার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাসের যাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চশবড়াই গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে ওমর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ৯জন ডাকাতদলের সদস্যের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

বাসটিতে দুইজন নারী যাত্রীকে শ্লীলতাহানী ও সকল যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবাহী বাসটি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিক রোড রয়েলস পরিবহনের একটি ঢাকা কোচ (যার নম্বর- ময়মনসিংহ-ব-১১-০০৬১) বাসটি ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহীর নাটোরের বড়াইগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় বাসটিতে ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিল।

পরে রাত ১২টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে এবং হেমায়েতপুর থেকে আরও ১০ থেকে ১২জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পুনরায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা করে। ঘটিকার সময় বাসটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার চন্দ্রা বাইপাসে পৌঁছালে চা-বিরতির জন্য থামে। সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চা বিরতির সময় চন্দ্রা বাইপাস থেকে আরও তিন থেকে চার জন নতুন যাত্রী নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা করে বাসটি। বাসটি ওইদিন রাত দেড়টার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর হাইটেক সিটি পার্ক সংলগ্ন খাড়াজোড়া ফ্লাইওভার ব্রিজ অতিক্রম করার ৫ থেকে ৬ মিনিট পর হঠাৎ বাসে ৮ থেকে ৯ জন যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায় এবং ধারালো চাকু ও চাপাতি দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে সকলকে চুপ থাকতে বলে।

এসময় তাদের মধ্যে তিনজন অজ্ঞাতনামা ডাকাত গাড়ি চালকের গলায় ধারালো ছুরি ধরে টানা হিঁচড়া করে কিলঘুষি মেরে তাকে উঠিয়ে নিয়ে উল্টো করে রাখে। ডাকাতদের মধ্যে থেকে একজন ডাকাত চালকের আসনে বসে বাসটি নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বাসটি চালিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে রওনা হয়। 

পরে মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপাড়া সাকিনস্থ ফুটওভার ব্রিজের প্রায় ১০০ গজ পশ্চিম পার্শ্বে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পৌঁছালে ডাকাতদলের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য গাড়িতে থাকা অন্যান্য যাত্রীদেরকে ধারালো চাকু ও চাপাতি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এসময় সকল যাত্রীদেরকে বলে, ‘তোদের সাথে টাকা পয়সাসহ যার যা কিছু আছে সব দিয়ে দে।’

এসময় যাত্রীদের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও রূপাসহ সকল মালামাল ছিনিয়ে নেয়। পরে ডাকাতদলের সদস্যরা মির্জাপুরের নাটিয়াপাড়া নাছির গ্লাসের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা করে।

তারা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা গাজীপুরের কালিয়াকৈর, কোনাবাড়িসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরায় এবং এই সময়ের মধ্যে যাত্রীদেরকে ধারালো চাকু ও চাপাতি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এসময় দুইজন নারী যাত্রীকে শ্লীলতাহানী করা হয়। 

মামলার এজহারে আরও বলা হয়েছে, সকল যাত্রীদের টাকাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে রাত ৪টার দিকে ঢাকা জেলার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকার নন্দন পার্কের সামনে গাড়ীটি টাঙ্গাইল অভিমুখি থামিয়ে চালককে ভয় দেখিয়ে বলে, ‘১০ কিলোমিটারের মধ্যে গাড়ীটি কোথাও থামালে তোকে জানে মেরে ফেলব, আমরা তোদের গাড়ির পিছনে পিছনে আছি’ এই বলে ডাকাতদলের সদস্যরা মালামাল ও টাকা পয়সাসহ গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত চলে যায়।

পরে চালক গাড়ি নিয়ে চন্দ্রা মোড়ে গেলে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানালে কিছুক্ষণের মধ্যে টহল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। তখন গাড়িতে থাকা যাত্রীরা ডাকাতির বিষয়ে বিস্তারিত জানালে টহলরত পুলিশ মির্জাপুর থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিলে চালক গাড়ি নিয়ে মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডে যায়। 

তখন কয়েকজন যাত্রী ও গাড়ির সুপারভাইজার মির্জাপুর থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করে পুনরায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানা মোড়ে গেলে গাড়ি থেকে তিন থেকে চারজন যাত্রী নেমে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গাড়ির চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে সন্দেহে গাড়ীটি আটক করে। 

এসময় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে গাড়ির চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। পরে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ গাড়িচালক, হেলপার ও  সুপারভাইজারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে পাঠানো হয়। ডাকাতদের বয়স অনুমান ২৫ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। 

মামলার বাদী ওমর আলী বলেন, ‘মামলার এজহারে আমি স্বাক্ষর করেছি। এ মামলায় ৮-৯জন অজ্ঞাতনামা ডাকাতদলের সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। বাসে থাকা সকল যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ও মালামাল লুট করে। বাসটিতে ৭ থেকে ৮জন নারী যাত্রী ছিল। এদের মধ্যে দুইজনকে শ্লীলতাহানী করা হয়। 

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’ 

অপরদিকে, ডাকাতির ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার, চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। 

রেজাউল করিম/এমআই

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন