Logo

অপরাধ

১৮ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি

তুরস্ক প্রবাসীকে অপহরণ চেষ্টা ২ গোয়েন্দা সদস্যের

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ২০:৩০

তুরস্ক প্রবাসীকে অপহরণ চেষ্টা ২ গোয়েন্দা সদস্যের

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর ফকিরাপুলে একটি আবাসিক হোটেলে এক তুরস্ক প্রবাসীকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ চারজন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুলের হোটেল এরোমায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অপহরণকারী চক্রের সোর্সকে গ্রেফতার করেছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মতিঝিল থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। পুলিশ পলাতক গোয়েন্দা সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত করছে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীরা হলেন মোহাম্মদ সহিদ মিয়া (৫৫) ও তার চাচাতো ভাই আঙ্গুর মিয়া (৪২)। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায়। গ্রেফতার সোর্স রাসেল ওরফে সজীব (৩৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মহেন্দ্রো মজলিশপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কয়েকজন হোটেলে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। পলাতকদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেফতার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ ও তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শহীদ মিয়া প্রায় ৩৫ বছর ধরে তুরস্ক প্রবাসী। এক বছর আগে তিনি দেশে আসেন। বুধবার চাচাতো ভাই আঙ্গুর মিয়াকে নিয়ে ঢাকায় এসে ফকিরাপুল কাঁচাবাজার গলির হোটেল এরোমা রিজেন্সির ৪০৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চাচাতো ভাইসহ ইফতার করতে বের হচ্ছিলেন। হোটেলের সিঁড়িতে রাসেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জন পথ আগলে ধরেন। এ সময় রাসেলের সঙ্গে থাকা গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য কথার প্রয়োজন আছে বলে আবার রুমে যেতে বলেন। কথামতো রুমে এলে মোট চারজন রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের হাতে ওয়াকিটকি ও কোমরে হ্যান্ডকাপ ছিল। তারা নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থার লোক বলে পরিচয় দেন। জিম্মি এই দুজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা দুই ভাইয়ের মোবাইল ফোন তাদের কব্জায় নিয়ে নেন। তারা রুমের সবকিছু এলোমেলো করে কী যেন খুঁজতে থাকেন। রুমে কোনো কিছু না পেয়ে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১৮ হাজার ইউরো (২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা) দাবি করেন। অন্যথায় তারা তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এ সময় বাদী শহীদ মিয়া তাদের কাছে কোনো ইউরো বা টাকা নেই বলে জানান। পরে তারা বাড়িতে ফোন দিয়ে টাকা আনতে চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে দুজনকে আটক করার কথা বলে হোটেলের নিচে নামিয়ে আনা হয়। হোটেলের ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম এ সময় গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ চারজনকে পুলিশ না আসা পর্যন্ত দুই ভাইকে হোটেলের বাইরে নিয়ে যেতে বাধা দেন। এদিকে এ সময় হোটেলের নিচতলায় আশপাশের লোকজন আসতে থাকে। এছাড়া হোটেলের এক কর্মী ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য বিষয়টি টের পেয়ে থানায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যান। তাদের মোটরসাইকেলটির নম্বর ঢাকা মেট্রো ল-১৬-০৭২০২৪। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ রাসেলকে আটক করে রাখে। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুলিশ রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হয়েছে পলাতক তিনজনের মধ্যে ২ জন একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য। এরা হলেন উজ্জল শেখ ও কাদের খান। তবে মামলার এজাহারে তাদের দুজনের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

বিআরটিএ জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রো ল-১৬-০৭২০২৪নং মোটসাইকেলটির মালিক আল আমিন নামে একজন। মোটরসাইকেলের লাইসেন্সের নথিপত্রে মিরপুরের পাইকপাড়ার স্বপ্ননীড় আবাসিক এলাকার এইচ-১৮৮/৪জি ঠিকানা দেওয়া আছে। মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, পুলিশ মোটসাইকেল ও পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করছে। তারা কোনো গোয়েন্দা সংসার সদস্য কিনা, সে বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর