নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি, সয়াবিন তেলের সংকট
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৫, ১৫:৩১
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই সুযোগে অতিরিক্ত মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রোজার আগে নিত্যপণ্যের দাম স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে সরবরাহ কম ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি অস্বস্তি রয়েছে চালের দামেও।
গত বছর রোজা শুরুর আগে ও বর্তমান বাজারদর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর রোজা শুরুর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় আটটি পণ্য যেমন- পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর, গরুর মাংস, রসুন ও আলুর দাম ৪ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। ওই বছর সয়াবিন তেল চিনি ও খেজুরের দাম বেড়েছিল অস্বাভাবিক হারে। সে তুলনায় এ বছর এখন পর্যন্ত চিনি, খেজুর, ডাল, পেঁয়াজ ও আলুর দাম কম রয়েছে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি, ছোলা, আদা-রসুন, মসলা ও কাঁচা মরিচের মতো পণ্যগুলোর দাম স্থিতিশীল বা সামান্য কম বা বেশি হয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বেশ কিছু পণ্যের ভরা মৌসুম, নতুন সরকারের শুল্কছাড়, পর্যাপ্ত আমদানির কারণে বেশিরভাগ পণ্যের দামে স্থিতিশীলতা আছে। যদিও প্রতি বছরের মতো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বেগুন, লেবু, ধনেপাতার মতো পণ্যগুলোর দাম বেশি মনে হচ্ছে, সেটা প্রতি বছরই হয়।
রাজধানীর নাখালপাড়া বাজারের তাইয়্যেব ভ্যারাইটিজ স্টোরের মুদি ব্যবসায়ী নজরুল বলেন, ভোজ্যতেল ছাড়া এ বছরের বাজার অন্যান্য বছরের তুলনায় একদম স্থিতিশীল বলা যেত। বরং গত কয়েক মাসের তুলনায় এখন জিনিসপত্রের দাম কম। কিছু পণ্যের সরবরাহ কমার কারণে ২-১ টাকা কম বা বেশি হচ্ছে, যেহেতু এখন মানুষ কিনছে বেশি। এটা দু-চারদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
বাজারে পণ্যের স্বস্তির কথা বলছেন ক্রেতা জ্যোস্না বলেন, আগে রোজা শুরুতে এটার দাম বাড়ে, ওটা বাড়ে, এমনটা এ বছর নেই। একদিন বাকি কিন্তু ক্রেতাদের মধ্যে আগের সেই হুড়াহুড়ি নেই। রোজার আগে এমন একটা খুব একটা দেখা যেত না। বরং এবার সবকিছুর দাম নাগালের মধ্যে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোজ্যতেলের সংকট রয়েছে। একাধিক দোকান ঘুরেও তেল মিলছে না। সেসব দোকানে এক বা দুই লিটারের বোতলও নেই। ক্রেতাদের কিনলে পাঁচ লিটারের তেল কিনতে হচ্ছে। খোলা সয়াবিনের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতাকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সরকার নির্ধারিত তেলের দাম ১৭৫ টাকা হলেও ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে খোলা তেল।
তেল সংকটের বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার জানান, আমদানি করা অপরিশোধিত তেল খালাস করে দ্রুত পরিশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুত এই সয়াবিন তেল বাজারজাত করা হলে সংকট বেশি দিন থাকবে না
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রমজানের প্রথম সপ্তাহে আমদানি হচ্ছে ১৪ কোটি লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল। এসব তেল চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হচ্ছে। আর্জেন্টিনাসহ একাধিক দেশ থেকে ট্যাংকারে আসছে এসব সয়াবিন তেল। কারখানায় পরিশোধন শেষে এই তেল বাজারজাত করা হলে সয়াবিন তেলের সংকট কাটবে আশা সংশ্লিষ্টদের।
এর আগে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঁচ ট্যাংকারে আমদানি হয়েছে ৭৮ হাজার টন বা সাড়ে ৮ কোটি লিটার সয়াবিন তেল। আর রোজা শুরুর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ৪ ট্যাংকারে আরও ৫১ হাজার টন সয়াবিন তেল আসছে। অর্থাৎ রোজার এক সপ্তাহের মধ্যেই এক লাখ ২৯ হাজার টন বা ১৪ কোটি লিটার সয়াবিন তেল আমদানি হচ্ছে।
এএইচএস/এমএইচএস

