গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। আর এরই ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি ‘আশঙ্কাজনকভাবে’ বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে যথাযথ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে ‘ব্যর্থ’ হওয়ায় এই ঘাটতি দিনে দিনে বেড়ে চলেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, যা আগের সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৫৫ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ৫০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা বা ৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রভিশন ঘাটতি বাড়ছে। তারা জানাচ্ছেন, ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। অন্যথায় ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে যাবে। প্রভিশন ঘাটতি কমাতে হলে প্রথমে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। ঋণ দেওয়ার সময় আরও বেশি যাচাই-বাছাই করতে হবে, যাতে ঋণ ফেরত আসতে পারে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের পরিচালন মুনাফার ০.৫ থেকে ৫ শতাংশ সাধারণ ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ এবং সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়। মন্দ বা লোকসান খাতের খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়।
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৪৮ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৫ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। এই হিসাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ৩৩ হাজার ৫২ কোটি টাকা বা ৬৭ দশমিক ৬১ শতাংশ।
অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর প্রভিশন সংরক্ষণের পরিমাণ ২ হাজার ২২৫ কোটি টাকা থাকলেও, তারা ২ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা প্রভিশন রেখেছে, অর্থাৎ ৪৬৩ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর প্রভিশনও ২৫৫ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে, যেখানে তাদের প্রভিশন রাখার কথা ছিল ২ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। তারা রেখেছে ৩ হাজার ৮৪ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক থেকে অপব্যবহার করে নেওয়া অর্থ এখন খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গত সাড়ে ১৫ বছরে ঋণখেলাপি ও প্রভাবশালীদের একাধিক ছাড় দেওয়ার ফলে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সাবেক দুই গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও ফজলে কবির এই ‘ছাড়নীতি’ বাস্তবায়ন করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা প্রয়োগ করেছে। যা ঋণ পরিশোধের হার কমিয়ে দিয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এএইচএস/এমজে

