Logo

অর্থনীতি

ব্যাংক লোন না পেয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন অনন্ত জলিল

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ০৮:২১

অ
ব্যাংক লোন না পেয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন অনন্ত জলিল

ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়ক ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল ব্যাংক লোন না পেয়ে মিডিয়ার সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার (১৯ মার্চ) একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যে তার বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বাংলাদেশের খবরের পাঠকদের জন্য তার ৫ মিনিট ৫ সেকেন্ডের পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো।

অনন্ত জলিল বলেন, আমরা সবাই আশা করেছিলাম, ঈদের সময় অন্তত একটি বেতন ব্যাংক থেকে লোন হিসেবে দেওয়া হবে। মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির বেতন, বোনাস দিতে হবে, আবার মার্চ মাসের ৫০ শতাংশ বেতন দিতে হবে। একজন গার্মেন্টস মালিক একসঙ্গে কোত্থেকে এই তিনটি জিনিস পাবেন।

তিনি আরও বলেন, যারা ৮৪ শতাংশ বিদেশি আয় আনেন, তাদের ব্যাপারে কী করেছেন? গার্মেন্টস মালিকরা মুখ বুজে কারখানা বন্ধ করে চলে যাচ্ছেন। আপনারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন, এ দেশের অর্থনীতির কী অবস্থা হবে? কর্মসংস্থানের কী হবে? এই শ্রমিক লিডাররা কয়েকজন মিলে দেশ চালাতে পারবে না, তারা একটি কারখানাও করতে পারবে না। কেউ ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ করে গুলশানের বাসায় বা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। 

কিন্তু আমি প্রতিবাদ করছি—এ দেশে গার্মেন্টস থাকতে হবে, না হলে দেশ চলার মতো কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। আমাদের চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় একটি অংশ আমদানি করতে হয়। এর জন্য ডলার লাগে, আর ডলার ছাড়া কেউ বাংলাদেশের টাকা নেবে না। তাহলে ডলার কোত্থেকে আসবে? কৃষক সার কিনবে কোত্থেকে? ফসল ফলাবে কীভাবে? এজন্য ডলার দরকার। আর এ দেশে ডলার নিয়ে আসে গার্মেন্টস মালিকরা ও ১২-১৪ শতাংশ আনেন প্রবাসীরা।

শ্রমিক নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে শ্রমিক নেতাদের বলতে শুনেছি, সব বন্ধ কারখানা খুলে দিতে হবে। মালিকরা এখন কেন কারখানা খুলে দেবেন? তোমরা লিড দিয়ে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ করতে পারো, কিন্তু এখন খুলতে পারো না! একটি গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তোলো, শ্রমিকদের চাকরি দাও। আজ যদি আমি কারখানা বন্ধ করে দিই, তাহলে এই ১২ হাজার শ্রমিকের সঙ্গে আরও ১২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ৮৪ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে শুধু তৈরি পোশাক খাত থেকে, ১৩-১৪ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে প্রবাসীদের কাছ থেকে, আর অন্যান্য রপ্তানি খাত থেকে আসে মাত্র ২ শতাংশ। তাহলে এই দেশ কীভাবে চলবে?

অনন্ত জলিল বলেন, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস সাহেব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য, যারা ১২, ১৩ কিংবা ১৪ শতাংশ রেমিট্যান্স আনেন, তাদের সম্মান দিয়েছেন। এয়ারপোর্টে সুন্দর বসার ব্যবস্থা করেছেন, তাদের আত্মীয়দের থাকার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস ৮৪% যারা বিদেশি আয় আনেন, তাদের ব্যাপারে কী করেছেন? আমার কারখানায় ১২ হাজার কর্মী কাজ করেন। শুধু তারা নয়, তাদের সঙ্গে তাদের পরিবারও জড়িত। যদি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে লাখ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার কীভাবে চলবে? এর সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষ কীভাবে চলবে?

এএইচএস/এমবি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন