জুনে মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশে নামার পূর্বাভাস আইএমএফের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ১৪:৫০
বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি আগামী জুন নাগাদ ৮.৫ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখপাত্র এ তথ্য জানান।
মুখপাত্র বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আইএমএফের সঙ্গে চলা বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ সময় তারা আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে এটাকে নিয়ে সন্তুষ্টির ঢেকুর গিলতে চাচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মুখপাত্র আরও বলেন, ইনফ্লেশনের হার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। সরকারের সবগুলো অর্গান যখন এক সঙ্গে কাজ করে তখনই এটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এখন পর্যন্ত ঋণ পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া উত্তরে আইএমএফ সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হচ্ছে তারা সন্তুষ্ট। যদি কোনো প্রশ্নের জবাবে তারা সন্তুষ্ট না হন তারা তখন পালটা প্রশ্ন করেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ গণনার ক্ষেত্রে ডাবল কাউন্টিং হচ্ছে না। আইএমএফের নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে রিজার্ভ গণনা করায় তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, তারল্য সংকটে থাকা ১১টি ব্যাংকের মধ্যে ৬টি অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন আর তাদের তারল্য সহায়তা লাগবে না। তবে পাঁচটি ব্যাংক এখনো দুর্বল অবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণের চতুর্থ কিস্তির ২৩৯ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ। সেই অর্থছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতে গত ৬ এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করছে আইএমএফ।
জানা গেছে, আইএমএফের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলটি ৬ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে।
অর্থ বিভাগ আরও জানায়, এ সফরে আইএমএফ দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করবে সফররত আইএমএফ দল। দলটি সফরের শেষ দিন ১৭ এপ্রিল ফের বৈঠক করবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।
২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পায় ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। একই বছরের ডিসেম্বরে পেয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার আর ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার পেয়েছে। তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে প্রায় ২৩১ কোটি ডলার। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি থেকে কিস্তি পেতে বেশ কিছু শর্ত পালন করতে হয়। তবে এতো শর্তের মনে ঋণ নিয়ে বর্তমান গভর্নরের আপত্তির কারণে চতুর্থ কিস্তি পেতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
এএইচএস/এমএইচএস

