আইসিবির চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে সরকারের পলিসির পরিবর্তন প্রয়োজন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:১০
পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে সরকারের পলিসির পরিবর্তন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড আয়োজিত ‘নতুন বছর নতুন আশা, শুরু হোক সাফল্যের গল্প গাঁথা’ শীর্ষক বৈশাখী গ্রাহক মেলায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা, জিসকা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম খান এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা খাতুনসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে পলিসিগত পরিবর্তন করতে হবে। ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। আইপিওতে আসতে চায় এমন কোম্পানিগুলোর কী চাহিদা, কী সুবিধা দিলে তারা বাজারে আসবে তা জানতে হবে। তাহলেই ইউনিলিভারের মতো দেশি-বিদেশি বড় কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে বাজারে আসবে।
এনবিআরের ওপর ক্ষোভ জানিয়ে আবু আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এনবিআর কীভাবে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের ওপর ট্যাক্স শুধু বাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কীভাবে ট্যাক্স কমাতে হয় তারা সেটা মনে হয় শেখেনি। তারা সব সময় উল্টো গতিতেই চলছে।
তিনি বলেন, যারা সৎ ব্যবসায়ী তারা মানুষকে ১০ শতাংশ ব্যবসার দিতে কোনো আপত্তি করবে না বলে আমি মনে করি।
ওষুধ কোম্পানি জিসকার এমডি আমিনুল ইসলামকে উদ্দেশ করে আবু আহমেদ বলেন, পাবলিক ইস্যুতে গেলে আপনার কোম্পানির কনফিডেন্স বাড়বে। তখন বোঝা যাবে আপনি পাবলিক ওয়াচে আছেন। এখন ২০০ কোম্পানির পর আপনাকে খুঁজে বের করতে হয় তখন আর তা লাগবে না। দেশের বড় কোম্পানিগুলোকে বলবো আপনারা পাবলিক ইস্যুতে আসেন।
অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আমাদের অর্থনীতি ভালোর দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আদানির বকেয়া বিল আমরা পরিশোধ করেছি। আমদের রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন থেকে এখন ২৫ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। টাকা ভেলু্যেশন বেড়েছে এখন ডলার ১২২-২৩ এর ঘরে রয়েছে। কোনো ব্যাংকে এলসি খুলতে কোনো বাঁধা হচ্ছে না। কারণ পর্যাপ্ত ডলার আমাদের আছে।
তিনি বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডসহ ৩৮০টি শেয়ার আছে প্রায় বাজারে৷ সব কোম্পানি বিনিয়োগের জন্য না। দেখেশুনে বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে, কারো থেকে শুনে বা পরামর্শ নিয়ে বিনিয়োগ করা যাবে না। গ্ল্যামব্লিং এর ফাঁদে পড়বেন না। বি এ রিয়াল ইনভেস্টর। সততাই এখানে টিকে থাকার সবথেকে বড় বিষয়। আপনি অসৎ হবেন পুঁজিবাজার আপনার সব টাকা খেয়ে ফেলবে।
আইসিবির এমডি নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, পুঁজিবাজার আমাদের অর্থনীতির বিরাট একটি অংশ। কিন্তু প্রতিনিয়তই হোঁটচ খেয়ে যাচ্ছে আমাদের এই বাজার। তবে আগামী দিনে আমাদের এই বাজারের অবস্থা অনেক পরিবর্তন হবে আশা করি। কারণ, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার বাজার নিয়ে অনেক কিছু ভাবছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজারে টাস্ক ফোর্সসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে আমাদের ধৈর্য নিয়ে আসতে হবে। সবসময় ট্রেডিখ মোডে না থেকে ইনভেস্টমেন্ট মোডে থাকা। এখানে উত্থান পতন আছে অন্য সব ব্যবসার মতো। সেটা এক্সেপ্ট করার মানসিকতা থাকতে হবে।
আইসিবি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা খাতুন বলেন, পুঁজিবাজারের বড় একটি অংশ মার্চেন্ট ব্যাংক অনেক জায়গায় অবহেলিত। ভালো সিকিউরিটিজ আনতে হলে মার্চেন্ট ব্যাংককে গুরুত্ব দিতে হবে। ডিএসই যখন শুরু হয় তখন থেকেই ব্রোকার কমিউনিটি দ্বারা নিয়ন্ত্রণে ছিলো। আইসিবি শুরু থেকেই এখানে কাজ করে আসছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের গুরুত্ব সকলের কাছে তুলে ধরতেই আমাদের আজকের আয়েজন৷
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার মানেই আমরা লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা মনে করি। ফলে আমাদের দেশে এতো জনসংখ্যা হওয়ার পরও আমরা বেশিরভাগই এই বাজারের বাইরে। আমরা আইসিএমএল এর জন্য একটি প্রোডাক্ট নিয়ে আসি, যার নাম ‘টিআইপি’৷ এখানে এক হাজার টাকা থেকে বিনিয়োগ করা যায়। এই প্রোডাক্টে থাকছে ট্যাক্স রেয়াত। এটি একটি এক্সপার্ট টিম দ্বারা পরিচালিত।
এএইচএস/বিএইচ

