‘বৈষম্যমূলক ড্যাপ অর্থনীতিতে স্থবিরতা আনছে’
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:৪৩
বৈষম্যমূলক বিস্তারিত অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ ২০২২–২০৩৫)–এর কারণে দেশের আবাসন খাত ও সংশ্লিষ্ট লিংকেজ শিল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করেছে খাতটির ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো। তাঁরা বলছেন, এই স্থবিরতা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লিংকেজ শিল্পের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, নতুন ড্যাপে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে আবাসন খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বিনিয়োগ কমেছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি জানান, ড্যাপ অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন সীমিত হওয়ায় জমির মালিকেরা জমি ডেভেলপারদের দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে নতুন প্রকল্প শুরু হচ্ছে না। এতে আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ২০০টি লিংকেজ শিল্প—যেমন রড, সিমেন্ট, ইট, কেবল, রং, টাইলস, লিফট, স্যানিটারি সামগ্রী ইত্যাদির বাজারে ব্যাপক মন্দা দেখা দিয়েছে।
রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান রয়েছে। প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। কিন্তু বর্তমানে রডের চাহিদা ৫০ শতাংশ কমে গেছে, অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত, অস্থায়ী হলেও এই সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া। আবাসন খাত সচল না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, আবাসন খাত ভালো না থাকলে আমাদের চলা কঠিন। রড, সিমেন্টসহ সব উপকরণের চাহিদা কমে গেছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও ড্যাপের অসামঞ্জস্যতায় এই খাত ধুঁকছে।
বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল ক্যাবলস্ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আকতার হোসেন ঢালী বলেন, “আমরা দেশের ৯৮ শতাংশ কেবল সরবরাহ করি। আবাসন প্রকল্প বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।”
লিফট আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ এলিভেটর এক্সেলেটর অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমদাদ উর রহমান বলেন, ভবনের উচ্চতা কমে যাওয়ায় লিফটের চাহিদা একেবারে পড়ে গেছে। শিল্পটি এখন বড় সংকটে।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার কোম্পানিতে একসময় ৩৫০ জন কর্মী কাজ করত। এখন মাত্র ৭৫ জন আছে। বাকিদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক শংকর কুমার রায়, প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ, গ্লাস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হোসেন আলমগীর, টিম্বার ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার তানভীর মোহাম্মদ দিপু প্রমুখ।
সবশেষে বক্তারা বলেন, অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে হলে এই খাতের স্থবিরতা কাটাতে হবে। সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন জরুরি।

