
ছবি : সংগৃহীত
সোমবার (৫ মে) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
মূলত ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে বাজারে যে অতি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তার জেরেই দাম এতটা নিচে নেমে আসে সোমবার। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তো আছেই।
মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ সেন্ট বেড়ে ৬০ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছে। সেই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০ সেন্ট বেড়ে ৫৭ দশমিক ২৩ ডলারে উঠে এসেছে। এই উভয় জাতের তেলের দাম গতকাল সোমবার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। চলতি বছর জ্বালানি তেলের দাম ২০ শতাংশ কমেছে।
গত শনিবার ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো টানা দ্বিতীয় মাসের মতো তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ঠিক করেছে, আগামী জুন মাসের মধ্যে দৈনিক তেল উৎপাদন ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেলে উঠবে।
জুন মাসে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আটটি সদস্যদেশ তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে তালিকায় রাশিয়াও আছে। এর মধ্য দিয়ে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে সর্বমোট তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ৯ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল। এই পরিস্থিতিতে সদস্যদেশগুলো উৎপাদন কোটা যথাযথভাবে মেনে না চললে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে ওপেক স্বেচ্ছায় তেল উৎপাদন হ্রাসের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি ডায়মন্ড ব্যাক এনার্জি ২০২৫ সালে উৎপাদন হ্রাসের কথা জানিয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার জেরে এই বাস্তবতা। সেই সঙ্গে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর তেল উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি তো আছেই।
এদিকে সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, কর হ্রাস ও নিয়মকানুন শিথিল করার যে কর্মসূচি, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে তারা শুধু সাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কেবল টিকে থাকবে তা নয়, বরং তা আরও শক্তিশালী হবে।
এদিকে আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক। সেই বৈঠকে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্কলেস ব্যাংক ২০২৫ সালে জ্বালানি তেলের গড় দাম পূর্বাভাস করেছে। আগের পূর্বাভাসের চেয়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার হ্রাস করে তারা ৭০ ডলারের কথা বলেছে। সেই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য তেলের দাম পূর্বাভাস করেছে ব্যারেলপ্রতি ৬২ ডলার। তারা বলেছে, সামনে বন্ধুর পথ। বাণিজ্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে এবং ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার প্রভাবও বাজারে পড়বে।