আইএমএফ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাবে বাংলাদেশ : গভর্নর
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৫, ০৯:২৭
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থসহায়তা পাবে বাংলাদেশ—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বুধবার (১৪ মে) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
গভর্নর বলেন, আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। আমরা মনে করি, এখন সময় এসেছে বাজার নির্ধারিত হারে ডলারের দর নির্ধারণের। যদিও এটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমান হারের তুলনায় বড় কোনো তারতম্য হবে না।
তিনি আরও জানান, ডলারের দর বাজারভিত্তিক করার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আইএমএফের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি মিলিয়ে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার জুন মাসের মধ্যেই ছাড় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিন বিকেলে আইএমএফ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশকে দেওয়া মোট অর্থসহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এর আগে, বাংলাদেশ সরকার অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার জন্য আবেদন করেছিল।
সরকার ইতোমধ্যে আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত ৫৬৭.২ মিলিয়ন এসডিআর (প্রায় ৭৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। এ অনুরোধ অনুমোদন পেলে Extended Credit Facility (ECF) ও Extended Fund Facility (EFF) মিলিয়ে মোট সহায়তা দাঁড়াবে ৩,০৩৫.৬৫ মিলিয়ন এসডিআর বা প্রায় ৪.১ বিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া Resilience and Sustainability Facility (RSF) এর অধীনে আরও ১ বিলিয়ন এসডিআর বা প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা রয়েছে।
তৃতীয় ও চতুর্থ যৌথ মূল্যায়নের পরপরই আইএমএফ থেকে ৯৮৩.৮ মিলিয়ন এসডিআর (প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার) অর্থ ছাড় করা হবে। এর মধ্যে ৬৫০.৫ মিলিয়ন এসডিআর (প্রায় ৮৭৪ মিলিয়ন ডলার) ECF ও EFF এর অধীনে, ৩৩৩.৩ মিলিয়ন এসডিআর (প্রায় ৪৪৮ মিলিয়ন ডলার) RSF এর অধীনে ছাড় করা হবে।
আইএমএফ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৩ শতাংশে নেমে এলেও, দ্বিতীয়ার্ধে তা পুনরুদ্ধার হয়ে পুরো অর্থবছরে ৩.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে মুদ্রাস্ফীতি দ্বিগুণ অঙ্কে পৌঁছালেও বর্তমানে তা কমতির দিকে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে মুদ্রাস্ফীতির হার ৮.৫ শতাংশে নেমে আসবে। তবে ব্যাংক খাতে চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতির জন্য এখনো বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- এএইচএস/এটিআর

