Logo

অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিপরীতে কৌশল চায় ডিসিসিআই

Icon

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৫, ১৯:০১

অ
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিপরীতে কৌশল চায় ডিসিসিআই

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ৩৭ শতাংশ পারষ্পরিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও ৯০ দিনের জন্য বিষয়টি স্থগিত রয়েছে, তবুও এই পরিস্থিতিতে কার্যকর কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

শনিবার (১৭ মে) রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর যৌথ আয়োজনে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পারষ্পরিক শুল্ক এবং বাংলাদেশের কর্ম-পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের (আইসিসি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় অপ্রচলিত বাজারে প্রবেশ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ত্বরান্বিত করা, কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার রপ্তানি খাতকে টেকসই করতে সহায়ক হবে।’

বিল্ড-এর চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি। একইসঙ্গে নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য একটি সমন্বিত রোডম্যাপ থাকা প্রয়োজন।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমরা কিছু পণ্যে আমদানির দিকে আগ্রহী। তুলা ও এলএনজি আমদানির মাধ্যমে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালার আলোকে কৌশলগত আলোচনা দরকার। একইসঙ্গে একক বাজার নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দিকে নজর দেওয়া দরকার।

মূল প্রবন্ধে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এই পরিস্থিতিকে সংকট নয়, বরং সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে হবে। তবে শুল্ক আরোপকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্লেষণ করা উচিত।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মেসবাউল হক বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে না পারলে আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বোঝার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তুলা, সয়াবিন ও এলএনজি আমদানিতে যৌথ উদ্যোগ হতে পারে একটি কৌশল।

শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব এবং নীতিগত সংস্কারের দ্রুত বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিটিএমএ’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজিব হায়দার বলেন, জ্বালানির ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়্যারহাউস গড়ে তুললে তুলা আমদানির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, সাবেক সভাপতি ও খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এএইচএস/এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন