Logo

অর্থনীতি

ডিসেম্বরে জারি হতে পারে অধ্যাদেশ, স্বাধীনতা পাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Icon

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৫৬

ডিসেম্বরে জারি হতে পারে অধ্যাদেশ, স্বাধীনতা পাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক খাতে বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ বাতিল করে নতুন করে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ২০২৫’ জারি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই এটি অধ্যাদেশ আকারে কার্যকর হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর পরিবর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ২০২৫-এর খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা পর্ষদকে অবহিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রস্তাবিত খসড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার আইনি কাঠামো দাঁড় করানোর কথা বলা হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ২০২৫-এর খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তা উপদেষ্টা পরিষদে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে খসড়াটি অধ্যাদেশ আকারে প্রকাশিত হবে।

জানা গেছে, খসড়ায় বলা হয়েছে- পরিচালনা পর্ষদে কোনো আমলা থাকবে না। গভর্নর হবেন মন্ত্রী পদমর্যাদার। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে সংসদের অনুমোদন নিয়ে গভর্নর নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর মাধ্যমে। সরকারের পালাবদলের পর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ২০২৫ অধ্যাদেশ আকারে জারির লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এরপর থেকে এ অধ্যাদেশের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন, গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ এবং নির্বাহী পরিচালকের পদোন্নতি হবে। 

ব্যাংক খাত তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রার অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছে। খসড়াটি শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। খসড়া তৈরির কাজ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক কর্মকর্তা সাকের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের অভাবেই ব্যাংক খাতে বড় জালিয়াতি হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। সরকারি ব্যাংকে দ্বৈতশাসন নিয়েও নানা সমালোচনা আছে। নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক পরিচালনার একক ক্ষমতা থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সরকারের একটি বিভাগের মতো পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন খুব জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গভর্নর নিয়োগ। কেননা, গভর্নর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সভাপতিত্ব করেন। ফলে গভর্নর পদে এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে, যিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তা না করে শুধু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীন হবে না।

নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে ব্যাংক খাতের জবাবদিহি বাড়বে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে দ্বৈতশাসনের অবসান হবে। অর্থনীতি পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা স্পষ্ট ও শক্তিশালী হবে। বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃত কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারবে।

এএইচএস/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বাংলাদেশ ব্যাংক

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন