ইসলামী ব্যাংকে ‘অবৈধ কর্মী ছাঁটাই’, যা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৫৭
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ছাঁটাই ও পর্যবেক্ষণে রাখার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কেবল চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পরীক্ষা নেওয়া অন্যায় হলেও পদোন্নতি ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পরীক্ষা গ্রহণ সমর্থনযোগ্য।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘শুধুমাত্র চাকরিচ্যুত করার জন্য পরীক্ষা নেওয়া অন্যায়। তবে মেধা যাচাই ও পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা গ্রহণ যৌক্তিক। যাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হবে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) কামাল উদ্দীন জসিম জানান, বিগত সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ পেয়েছিলেন। ‘তখন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিই দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সিভি জমা দিয়েই চাকরি পাওয়া গেছে। এজন্য মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে অযোগ্যদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।’
ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণে জানা গেছে, অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মীর পেছনে ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বেতন-ভাতায় খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের দেওয়া এ অর্থ আইনি দৃষ্টিতে বৈধ নয়। তাই অর্থ ফেরত পেতে আদালতে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে অবৈধভাবে চাকরিতে ঢোকা প্রায় ২০০ কর্মকর্তাকে গত দুদিনে ছাঁটাই করেছে ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া আরও ৪ হাজার ৭৭১ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণাধীন (ওএসডি) করা হয়েছে। ওএসডি হওয়া মানে তারা বেতন-ভাতা পাবেন। তবে কোনো দায়িত্ব বা কাজ থাকবে না।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মীর বেশিরভাগই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং এস আলম গ্রুপের প্রভাবের সময় পরীক্ষাহীনভাবে চাকরিতে প্রবেশ করেছিলেন।
অন্যদিকে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া একাংশের দাবি, কর্তৃপক্ষ আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক পরীক্ষা আয়োজন করেছে। মোহাম্মদ ইস্কান্দার সুজন, এস এম এমদাদ হোসাইন, মোহাম্মদ ইকবাল, দিলরুবা আক্তার, শারমিন আক্তার ও নাসরিন জান্নাত নামের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ‘আমাদের ওপর জোর করে পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে পরীক্ষা আয়োজন হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।’
কর্মী ছাঁটাই, ওএসডি ও ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের আন্দোলন— সব মিলিয়ে ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
এএইচএস/এমবি

