Logo

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের ভল্ট ও ক্যাশ কাউন্টারে যেকোনো সময় হামলার শঙ্কা!

Icon

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ২০:৩৭

ইসলামী ব্যাংকের ভল্ট ও ক্যাশ কাউন্টারে যেকোনো সময় হামলার শঙ্কা!

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা হাতবদলের পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি ধ্বংসের নীলনকশা আঁকছিল—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞপ্তি বা লিখিত পরীক্ষার নিয়ম মানা ছাড়াই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চট্টগ্রামের পটিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের অদক্ষ-অর্ধ-শিক্ষিত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। চা দোকানদার থেকে শুরু করে গৃহকর্মী, অটো-রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রির সহকারী এমনকি সাম্পান রংমিস্ত্রীও জায়গা করে নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় এ ব্যাংকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৪০ জন। এদের অনেকে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। এরই মধ্যে কিছু ভুয়া সনদধারীকে চাকরিচ্যুত করা হলেও, ব্যাংকে এখনো অনেকেই সক্রিয় আছেন। ব্যাংকের ভল্ট ও ক্যাশ কাউন্টারে এদের হামলার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের আগস্টে এস আলম গ্রুপের নামে-বেনামে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। একই সময়ে ভুয়া নিয়োগে হাতিয়ে নেওয়া হয় কয়েকশ কোটি টাকা। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের বেশির ভাগেরই কোনো ব্যাংকিং দক্ষতা ছিল না। তারা অফিসে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা মানতেন না, এমনকি নিজের পছন্দমতো বদলি করিয়ে নিতেন। ফলে ব্যাংকের সেবার মান দ্রুতই ভেঙে পড়ে।

সম্প্রতি তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ব্যাংক বিশেষ দক্ষতা পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। কিন্তু প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তারা সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং নানাবিধ হুমকি দিতে থাকেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার ভোরে ‘এমএস ৪৭০ এক্স’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ হ্যাক করে আবার নতুন করে হুমকি দেয়। গ্রুপটি জানিয়েছে, তারা ব্যাংকের কার্যক্রম নজরদারিতে রেখেছে এবং শিগগিরই ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালাবে।

ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের হাতে এখন অনেক কিছুই নিরাপদ নয়। তারা নির্দেশনা অমান্য করছে, এমনকি ভল্ট ও ক্যাশ কাউন্টারও ঝুঁকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় বিপদ হতে পারে।’

অভিযোগ রয়েছে, শুধু অবৈধ নিয়োগকৃত কর্মীদের বেতন-ভাতা ও খরচের কারণে প্রতিবছর ব্যাংকটির ক্ষতি হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। গত ৭ বছরে এস আলম গ্রুপের লোপাট করা অর্থ বাদেই এ খরচ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘এস আলম একাই পুরো ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করলে তা সম্ভব হবে না।’

ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘদিনের গ্রাহক আমিনুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘পটিয়ার অবৈধ ব্যাংকাররা চাকরি রক্ষার আন্দোলন করেন, কিন্তু এস আলম যে ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন, তা ফেরত আনার আন্দোলন কেন করেন না?’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘অবৈধ নিয়োগ, সেবার মানহানি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ইসলামী ব্যাংক এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের হুমকি ও বিদ্রোহের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।’

এএইচএস/এএ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন