উত্তরাঞ্চলের চা কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে দুই মাস
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৩
চা-বাগানের প্রুনিং (ছাঁটাই) কার্যক্রমের লক্ষে আগামী দুই মাস দেশের দ্বিতীয় চা উৎপাদনের জেলা পঞ্চগড়ের চা কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে। ছবি : বাংলাদেশের খবর
- টেকসই চা উৎপাদন ও গুণগত মান নিশ্চিত
- কাঁচা পাতা সরবরাহ ও চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম বন্ধ
চা-বাগানের প্রুনিং (ছাঁটাই) কার্যক্রমের লক্ষে আগামী দুই মাস দেশের দ্বিতীয় চা উৎপাদনের জেলা পঞ্চগড়ের চা কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে। এ সময় কারখানাগুলোতে সবুজ চা-পাতা ক্রয়ও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা, ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত চিঠি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুপারিশ অনুযায়ী জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাসে চা বাগানে পরিচর্যা ও প্রুনিং করতে হয়। টেকসই চা উৎপাদন ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের চা কারখানাগুলোতে কাঁচা পাতা সরবরাহ ও চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চা আইনের ২০১৬-এর ৭(ক) ও ৭(খ) ধারা অনুযায়ী নির্দেশনা হিসেবে বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র চা চাষিদের কাছ থেকে সবুজ চা-পাতা ক্রয় করা হবে। ২ জানুয়ারি সবুজ চা-পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষ করতে হবে। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কারখানার উৎপাদিত চা শ্যাকিং ও প্যাকিং শেষে নিলামে পাঠানোর জন্য স্টোরেজ করার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ১ মার্চ থেকে পুনরায় বটলিফ চা কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম শুরু করা যাবে। পরবর্তী উৎপাদন মৌসুমে যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো কারখানা হঠাৎ বন্ধ রাখা যাবে না এবং বন্ধ রাখতে হলে বাংলাদেশ চা বোর্ডকে আগে থেকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
অপরদিকে, বটলিফ চা কারখানায় উৎপাদিত চা বিদ্যমান চা আইন ও বিপণন ব্যবস্থার আওতায় বিক্রি করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার অনুমোদন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০০০ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়া পঞ্চগড় চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সিলেটের পর দ্বিতীয় অঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে। প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার চা-বাগান। নিবন্ধিত ক্ষুদ্র চা-বাগান রয়েছে ১ হাজার ১৬৮টি। অনিবন্ধিত চা-বাগান রয়েছে ৬ হাজার। নিবন্ধিত ৮৯১ জন এবং অনিবন্ধিত ৫ হাজর ১৮ জন ক্ষুদ্র চা চাষি রয়েছেন। ২০ একরের ওপরে ১৯টি এস্টেট রয়েছে।
বর্তমানে জেলায় ২৩টি চা প্রক্রিয়াজাত কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানা থেকে গত বছর ১ কোটি ৫২ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে ১ কোটি ৪৫ লাখ, ২০২০ সালে ১ কোটি ৩ লাখ এবং ২০১৯ সালে ৯৫ লাখ ৯৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে চা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত চা কারখানা রয়েছে ৫৮টি। তার মধ্যে ২৮টি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি কারখানায় চা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

সমতলের চা-বাগান ঘিরে বেকার নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থান হয়েছে। জেলার লক্ষাধিক মানুষ চা শিল্পে যুক্ত। বেকারদের একটি বড় অংশ চাকরি ছেড়ে চা চাষে বিনিয়োগ করছেন। এতে হাজার হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী হয়েছে তারা।
চা অর্থকরী ফসল হিসেবে বছরের নয় মাস বাগানের বিভিন্ন কাজ চলে। বাগানের পরিচর্যা হিসেবে ফ্লাইং কাটিং অর্থাৎ গাছের মাথা ফ্লাইং কাটিং, সার ও কীটনাশক স্প্রে, পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হয়। তিন মাস বাগান পরিচর্যার পর নতুন কুঁড়ি গজে ওঠে। এর মাসখানেকের মধ্যে শুরু হয় পাতা তোলা। শ্রমিকরা দলবেঁধে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা চুক্তিতে পাতা তোলেন। দিন শেষে শ্রমিকদের হাতে আসে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। পাতার দাম বাড়লে শ্রমের দামও বাড়ে। এছাড়াও চা কারখানাগুলোতেও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
-6957a39796b55.jpg)
করতোয়া চা কারখানার ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলম জানান, জানুয়ারি ৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২৮ পর্যন্ত চা বাগানে পরিচর্যা ও প্রুনিং করতে হয়। টেকসই চা উৎপাদন ও গুণমান নিশ্চিত করতে এ দুই মাস কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই সময় কোন কাঁচা পাতা ক্রয় করা সম্ভব হবে না। কারখানা বন্ধ রাখার সময় অভ্যন্তরীণ কাজ হিসেবে কারখানার মেশিন চালু রাখা হবে। মার্চ থেকে পাতা ক্রয় শুরু হবে।
করতোয়া চা কারখানার ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলম জানান, জানুয়ারি ৩ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারি ২৮ পর্যন্ত চা বাগানে পরিচর্যা ও প্রুনিং করতে হয়। টেকসই চা উৎপাদন ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এ দুই মাস কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পর আমরা কারখানা বন্ধ রাখছি। এ সময় কোনো কাঁচা পাতা ক্রয় করা সম্ভব হবে না। কারখানা বন্ধ রাখায় অভ্যন্তরীণ কাজ হিসেবে কারখানার মেশিন চালু রাখা হবে। আগামী মার্চ থেকে পাতা ক্রয় শুরু হবে।
এসকে দোয়েল/এমবি

