Logo

অর্থনীতি

রড ও সিমেন্টের চাহিদা হ্রাস

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০০

রড ও সিমেন্টের চাহিদা হ্রাস

চাহিদা ও বিক্রি কমায় নির্মাণকাজের প্রধান উপকরণ রড ও সিমেন্ট ব্যবসায় ধস নেমেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রডের দাম গত এক বছরে প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। ব্যবহারজনিত চাহিদা বৃদ্ধি না পেলে এ খাত ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মাণকাজে সম্পৃক্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সরকারের বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন শিল্পেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রড ও সিমেন্টের বাজারে। উদ্যোক্তারা আরো জানান, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পরপরই নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ ঠিকাদার গা-ঢাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে সুদের হার বেড়েছে, বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়ও। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, সিমেন্ট খাতের উৎপাদন সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দেশের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। যেসব প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে; সেগুলো আওয়ামী সরকারের পতের পর বন্ধ রয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিমেন্ট খাতে। বিশ্ববাজার থেকে আমদানি, ডলার সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা কেটে গেলেও ব্যবহারজনিত চাহিদা বৃদ্ধি না পেলে এ খাতও ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে-জুন মাসে প্রতি টন রডের দাম ছিল ৯০ হাজার টাকার বেশি। বর্তমানে বাজারে ৮৬ হাজার থেকে ৮৭ হাজার টাকা টন দরে রড বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মে-জুনের তুলনায় সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২০-২৫ টাকা কমেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) জানায়, দেশে ইস্পাত কারখানা দুই শতাধিক। এর মধ্যে বড় প্রতিষ্ঠান ৪০টি। প্রতিষ্ঠানগুলোর বছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন রড উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। যদিও দেশে বার্ষিক রডের চাহিদা ৭৫ লাখ টন। এখন পর্যন্ত এই খাতে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। বছরে লেনদেনের পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, দেশের কোম্পানিগুলোর রড উৎপাদনে সক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখ টন। বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ৬৫ লাখ টন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ব্যবহার হয় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে। বাকি ৪০ শতাংশ বেসরকারি ও ব্যক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হয়। বর্তমানে চাহিদা কমে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা কমেছে সরকারি প্রকল্পে। এখানে রডের চাহিদা ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় দামও ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বিভিন্ন কোম্পানির রডের দাম
বর্তমানে আকিজ ইস্পাতের প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার টাকা দরে। একেএস স্টিলের রড ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা, আনোয়ার স্টিলের ৮৫ হাজার টাকা, এএসবিআরএম স্টিলের ৮১ হাজার টাকা, বাইজিদ স্টিলের ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা, বিএসআই স্টিলের ৮০ হাজার ৭০০ টাকা, বিএসআরআরএম স্টিলের ৮৮ হাজার টাকা, সিএসআরএম স্টিলের ৮১ হাজার ৫০০ টাকা, ঢাকা স্টিলের ৮৭ হাজার টাকা, গোল্ডেন স্টিলের ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা, জিপিএইচ স্টিলের ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা, হাইটেক স্টিলের ৮০ হাজার ৬০০ টাকা, এইচকেজি স্টিলের ৮২ হাজার টাকা, এইচআরআরএম স্টিলের ৮৫ হাজার টাকা, জেএসআরএম স্টিলের ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা, কিং স্টিলের ৮৮ হাজার টাকা, কেআর স্টিলের ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা, কেএসএমএল স্টিলের ৮৮ হাজার টাকা, কেএসআরএম স্টিলের ৮৬ হাজার টাকা, মেট্রো স্টিলের ৮৫ হাজার টাকা, এমএসডব্লিউ স্টিলের ৮০ হাজার ৬০০ টাকা, পিএইচপি স্টিলের ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা, প্রাইম স্টিলের ৮০ হাজার ৮০০ টাকা, পিএসআরএম স্টিলের ৮০ হাজার ৬০০ টাকা, রহিম স্টিলের ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা, আরআরএম স্টিলের ৮৭ হাজার টাকা, আরএসআরএম স্টিলের ৮৫ হাজার টাকা, এস আলম স্টিলের ৮৮ হাজার টাকা, সারম স্টিলের ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা, এসএএস স্টিলের ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা, এসসিআরএম স্টিলের ৮১ হাজার ৫০০ টাকা, এসএস স্টিলের ৮১ হাজার টাকা, এসএসআরএম স্টিলের ৮১ হাজার টাকা, সুমা স্টিলের ৮১ হাজার ৫০০ টাকা ও জেডএসআরএম স্টিলের রড ৮২ হাজার টাকা টন দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম
বর্তমানে বাজারে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। এর মধ্যে বসুন্ধরা ৪৮৫, শাহ সিমেন্ট ৪৯২, আকিজ সিমেন্ট ও হোলসিম সিমেন্ট ৬৪৫, স্ক্যান মাল্টি সিমেন্ট ৫০৫, বেঙ্গল সিমেন্ট ৪৭৫, ইস্টার্ন সিমেন্ট ৪৬৫, সুপারক্রিট সিমেন্ট ৪৯০, প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৪৭৫, স্ক্যান সিমেন্ট ৫২৫, টাইগার সিমেন্ট ৪৮০, লাফার্জ সিমেন্ট ৫২০ ও সেভেন হর্স সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকা দরে।

বিকেপি/এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

নির্মাণ কথা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর