‘২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা’
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১২
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে কেবল তৈরি পোশাক শিল্পনির্ভরতা থেকে বের করে এনে বহুমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে সরকার ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি অর্জনের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন ‘এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিজে)’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনে ফেরদৌস সুমি, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও চেয়ারম্যান (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট) ড. এম. এ. রাজ্জাক, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ওয়াইস প্যারে, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই একক নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নন-পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অন্তত আড়াই গুণ বাড়াতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, আইসিটি, ওষুধ শিল্প এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, ইসিজে প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে চারটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পণ্য প্রোটোটাইপিং সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়নে ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ কার্যক্রম শুরু করেছে, যা প্রতিবছর প্রায় এক হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি করবে।’
রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড’ এর মাধ্যমে ১১০টির বেশি কারখানাকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বলে জানান তিনি।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নই হবে আগামী দিনের শিল্পায়নের মূল চাবিকাঠি। এই প্রকল্পটি কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
সেমিনারে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অংশীজনরা অংশ নেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার রপ্তানি খাতে সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াবে। এতে বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
এন বি আকাশ/এসএসকে/

