Logo

অর্থনীতি

অর্থ পাচার ও ব্যাংক খাতের ক্ষত সারাতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

Icon

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৫

অর্থ পাচার ও ব্যাংক খাতের ক্ষত সারাতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে ব্যাংক খাত ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেলেও এখনো বেশ কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সেই সময় যদি গণ-অভ্যুত্থান নাও ঘটত এবং অর্থনীতি একইভাবে চলতে থাকত, তবে একসময় ব্যাংকগুলোতে ধস নামাটা ছিল অনিবার্য। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এমন পর্যায়ে নেমে আসত যে দেশ দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হতো। তিনি মনে করেন, বিগত সরকারের পতনের ঘটনা ছিল অবশ্যম্ভাবী, আর এ বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই সুবিধাভোগীরা অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে দিয়ে গেছে।

ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য জ্বালানি খাতকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। অতীতে পরিকল্পনার অভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতের মতো সম্ভাবনাময় জায়গাগুলোতেও কিছু প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ব্যাংক খাতের ধস ঠেকাতে হাজার হাজার কোটি টাকার নোট ছাপাতে হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী হলেও তা কাঙ্ক্ষিত হারে কমেনি। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ যেখানে মাত্র ৬ শতাংশ, সেখানে ১০ শতাংশ নীতি সুদহার বজায় রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে ড. মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বড় ধরনের দুর্নীতি কমলেও এখনো মামলা ও বদলি বাণিজ্য রয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, সরকারি কলেজে বদলির জন্য এখনো ৮ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা বের করতে গোয়েন্দা সংস্থাও হিমশিম খাচ্ছে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেনসহ আরও অনেকে।


ডিআর/এমএন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর