বাণিজ্যমেলায় শেষ মুহূর্তে জনস্রোত আর মূল্যছাড়ের হুড়োহুড়ি
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৭
শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা আর উপচে পড়া ভিড়ে শনিবার পর্দা নামছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মাসব্যাপী এই বাণিজ্য উৎসব।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্টল ও প্যাভিলিয়নসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করা হবে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মেলার শেষভাগে এসে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো প্রাঙ্গণ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা। জুমার নামাজের পর বিকেল গড়াতেই মানুষের ঢল নামে। অনেক স্টলে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে বিক্রয় প্রতিনিধিদের। শেষ দিনের মূল্যছাড়ে কেনাকাটার ধুমে বিক্রেতাদের মুখেও ছিল স্বস্তির হাসি।
বাংলাদেশ স্কয়ার ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়নে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও তরুণদের ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। এবারের মেলায় ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ কাড়ে। পাশাপাশি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কার্যক্রম ও রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে নির্মিত ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’ ছিল ভিন্নমাত্রার সংযোজন।
এবারের মেলায় ১১টি বিদেশি দেশসহ মোট ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন অংশ নেয়। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের সুযোগ পান।
তবে মেলার আনন্দে কিছুটা ছেদ টেনেছে ঢাকা বাইপাস সড়কের দীর্ঘ যানজট। কাঞ্চন সেতুর পূর্ব পাশে টোলপ্লাজা এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে পড়েন অনেক দর্শনার্থী। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলা-বালিতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। যদিও ঢাকা শহর থেকে সরাসরি আগত দর্শনার্থীরা তুলনামূলকভাবে যানজটমুক্ত সড়কে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করেছেন।
ঢাকা থেকে দূরে হওয়ায় পণ্য বহনের ঝামেলা এড়াতে অনেক ক্রেতা মেলায় এসে পণ্য দেখে অর্ডার দিয়েছেন নিজ নিজ এলাকার শোরুমে ডেলিভারির জন্য। ফ্রি হোম ডেলিভারি সুবিধাও ছিল ক্রেতাদের বড় আকর্ষণ।
ম্যানুয়াল টিকিটের ভোগান্তি পেছনে ফেলে এবার ই-টিকেটিং ব্যবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় প্রবেশ করেন দর্শনার্থীরা। প্রবেশ গেটে ছিল না উল্লেখযোগ্য ভিড় বা ধাক্কাধাক্কি।
মেলায় দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, জুয়েলারি, পাটজাত পণ্য, লেদার, স্পোর্টস গুডসসহ নানা পণ্যের পসরা সাজানো হয়। কোথাও কোথাও বাইরে তুলনায় বেশি দামে ট্যাগ লাগিয়ে বড় ছাড়ে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও ক্রেতারা ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।
শিশুদের জন্য স্থাপিত দুটি শিশু পার্কেই দিনভর ছিল ভিড়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি অগ্নি নিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিস এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নাদিয়া ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধি আকাশ মাহমুদ বলেন, ‘দর্শনার্থীরা সরাসরি কিনছেন, আবার অনেকে অগ্রিম দিয়ে ফ্রি হোম ডেলিভারিতে অর্ডার দিচ্ছেন। বিক্রি ভালো হয়েছে।’
দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি পরিতোষ সরকার বলেন, ‘এবার মেলার ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে অনেক গোছানো। আমরা সব পণ্যে ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়েছি।’
ঢাকার রায়েরবাগ থেকে আসা ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, ‘পঞ্চমবারের মতো মেলায় এলাম। এ বছর পরিবেশ অনেক নান্দনিক। ইলেকট্রনিক পণ্য ফ্রি হোম ডেলিভারিতে কিনেছি।’
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন আমিনুল ইসলাম হৃদয় জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি দর্শনার্থী টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছেন। তার ভাষায়, এবারের বাণিজ্য মেলা সার্বিকভাবে সফল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, ‘শীত উপেক্ষা করেই শুরু থেকে দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল। শেষ দিকে এসে মেলা আরও জমে ওঠে। এবারের আয়োজন ব্যবসায়িকভাবে সফল।’
এন বি আকাশ/এসএসকে/

