স্বর্ণের বাজারে ধস, একদিনের পতনেই দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪
সপ্তাহের শুরুতেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল স্বর্ণের বাজার। কিন্তু সপ্তাহ না ঘুরতেই সেই চিত্রে বড় ধরনের উলটপুরাণ। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে হঠাৎ করেই স্বর্ণের দামে বিশাল ধস নেমেছে। মাত্র একদিনেই দাম পড়ে গেছে ১২ শতাংশের বেশি। আকস্মিক এই পতনে বড়সড় দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে। স্বর্ণের দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা আরও দীর্ঘায়িত হবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।
এই দরপতনের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তিশালী অবস্থানকে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দিয়েছেন। কেভিন এর আগে ফেডের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই নিয়োগের ফলে বাজারে এই বার্তা পৌঁছেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসায় তাঁরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ থেকে সরে এসে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম চাপে পড়ে। যেহেতু স্বর্ণের লেনদেন ডলারে হয়, তাই ডলারের মান বাড়লে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে, ফলে কমে যায় চাহিদা। শুক্রবার ঠিক এই পরিস্থিতিই দেখা গেছে। ব্যাপক বিক্রির চাপে ১৮৩০ জিএমটি নাগাদ স্বর্ণের দাম নেমে আসে ৪,৭২৪ ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে রুপার বাজারেও বড় ধস নামে; দাম ৩১ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৭৯.৩০ ডলারে।
অথচ সপ্তাহের শুরুতেও চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তায় স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ৫,৬০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। নিউইয়র্কে একপর্যায়ে তা ৫,৪১৮ ডলার ছাড়ালেও পরে ফিউচারস মার্কেটে দাম ৫,০০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
সিটি গ্রুপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র-চীন টানাপোড়েন, তাইওয়ান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও বাজারে বিদ্যমান। তবে তাঁরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এসব ঝুঁকির অনেকটাই কমে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্বর্ণের দামে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এক বছর আগেও স্পট গোল্ডের দাম ছিল ২,৭৯৫ ডলারের নিচে, যা বর্তমানের চেয়ে অনেক কম। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার এবং একাধিক উৎসে দাম যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

